এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পদত্যাগের পর এনসিপির দলীয় গ্রুপে দেওয়া এক বার্তায় তাসনিম জারা লেখেন, “প্রিয় সহযোদ্ধাগণ, আমি দল থেকে পদত্যাগ করেছি। গত দেড় বছরে আপনাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সেজন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।”

একই সঙ্গে তিনি খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে জানান, তিনি ওই এলাকারই মেয়ে। খিলগাঁওয়েই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে এলাকার মানুষের ও দেশের সেবা করার স্বপ্ন থাকলেও বাস্তবিক প্রেক্ষাপটে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তাসনিম জারা আরও বলেন, জনগণের জন্য লড়াই ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতেই রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সে লক্ষ্যেই আসন্ন নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় তাঁর কোনো স্থানীয় কার্যালয়, সংগঠিত কর্মীবাহিনী কিংবা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকবে না। এ অবস্থায় তাঁর একমাত্র ভরসা সাধারণ মানুষ। সততা, নিষ্ঠা ও নতুন রাজনীতি করার অদম্য ইচ্ছাশক্তির ওপর আস্থা রেখে জনগণের সমর্থন কামনা করেন তিনি।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে তাসনিম জারা জানান, ঢাকা-৯ আসনের ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর নির্দিষ্ট ফর্মে জমা দিতে হবে। আগামীকাল থেকেই এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হবে। মাত্র এক দিনে এত বিপুল সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব উল্লেখ করে তিনি স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা চান এবং স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর নির্বাচনী তহবিলে যারা অনুদান দিয়েছেন, তাদের বিষয়েও অবস্থান স্পষ্ট করেন তাসনিম জারা। স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে যারা অনুদানের অর্থ ফেরত নিতে চান, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি জানান, বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করলে যাচাই-বাছাই শেষে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো অনুদানের ক্ষেত্রেও শিগগিরই প্রক্রিয়া জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেন—
“আপনাদেরই মেয়ে, তাসনিম জারা।”