গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আর কখনও রাতের ভোট হবে না: অধ্যাপক আলী রীয়াজ
রাজশাহী, ১২ জানুয়ারি ২০২৬:
প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাই পেজে এক বিবৃতিতে জানান:
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশে আর কখনও ‘রাতের ভোট’ হবে না। গত ১৬ বছরে নির্বাচনের নামে যেসব প্রতারণা হয়েছে, সেগুলোর পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

ছবি: উপদেষ্টার ভেরিফাই পেজ থেকে সংগৃহীত
সোমবার রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতেই একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে ফ্যাসিবাদী শাসকরা এই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। তিনি বলেন, জনগণ যদি এবারের গণভোটে সম্মতি দেয়, তাহলে দেশে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হবে এবং একটি স্থায়ী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এক সময় দুর্নীতি ও লুটপাটের ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতেই জুলাই সনদ ও এই গণভোটের উদ্যোগ।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, পূর্বের গণভোটগুলোর সঙ্গে এবারের গণভোটের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। অতীতে ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য গণভোট করেছিল। কিন্তু ছাব্বিশের গণভোটে কেউ ক্ষমতায় থেকে জনগণের রায় চাইছে না। রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে, আর ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারাই জনগণের রায় কার্যকর করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, গত ১৬ বছর দেশ একটি দানবীয় শাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর অর্জিত বহু সাফল্য এই সময়ে ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, ৫৪ বছরেও আমরা তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারিনি। তাই এবারের গণভোট রাষ্ট্র সংস্কারের গণভোট। এই গণভোট ব্যর্থ হলে কার্যত আমাদের স্বাধীনতাই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান বলেন, গত ১৬ বছরের নির্যাতনের সময়ে আমরা আর ফিরে যেতে চাই না। তিনি গণভোটের পক্ষে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশ পরিবর্তনের পথে এগিয়ে গেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ শোধ হবে।
সম্মেলনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহীর পরিচালক মো. ইমামুল ইসলাম, রাজশাহী কালেক্টরেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি বক্তব্য রাখেন।
রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত বারো শতাধিক ইমাম এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।