তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি

খবর টিভি ডেস্ক ৮৯ দিন আগে | ০৯:১২ PM

জামায়াতসহ ৮–দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনায় আপত্তি, নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি

জামায়াতে ইসলামীসহ ৮–দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য।

শনিবার এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ইস্যুতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি চিঠি দেন তাঁরা। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন চিঠির বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে নেতারা জানান, এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিগত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির বিভাজনমূলক রাজনীতি, অন্যান্য দলে গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটাজ, এনসিপির ওপর অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) ও পরবর্তীতে ছাত্রশক্তি নিয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার, অনলাইন ফোর্সের মাধ্যমে এনসিপি ও এর ছাত্রসংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা এবং ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কাকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস—বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নেতারা মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং এর ফলে দলের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একাধিকবার ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এই অবস্থায় অল্প কয়েকটি আসনের জন্য কোনো জোটে যাওয়াকে জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মনে করছেন চিঠিদাতারা।

নেতারা আরও বলেন, জোটের সম্ভাবনার খবর গণমাধ্যমে আসার পরপরই দলটির সমর্থক, কর্মী ও সংগঠকদের একটি বড় অংশ এনসিপির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের মনোভাব প্রকাশ করছেন। এতে করে মধ্যপন্থী ও নতুন রাজনীতি প্রত্যাশী জনগোষ্ঠীর সমর্থন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

চিঠিতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। নেতারা বলেন, নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারিত হওয়া উচিত; কৌশলগত কারণে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন—এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনীসহ কেন্দ্রীয় কমিটির আরও নেতারা।

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ