তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

মেলার অজুহাতে প্রাক্‌-প্রাথমিক ক্লাস বন্ধ।

খবর টিভি ডেস্ক ৬৮ দিন আগে | ০৯:২৩ PM
ছবি: ক্লাস চলাকালীন সময়েও ফাঁকা পড়ে থাকা মতলব উত্তর উপজেলার ২০নং ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ।

মেলার অজুহাতে ক্লাস বন্ধ, প্রাক্‌-প্রাথমিক ভর্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

সফিকুল ইসলাম রানা: মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর এলাকার ২০নং ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেলার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস না করিয়ে মেলায় পাঠিয়ে দেওয়া এবং প্রাক্‌-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষকদের দিকে।

ছবি: সফিকুল ইসলাম রানা,মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ছয়জন শিক্ষক বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে গল্পগুজবে ব্যস্ত থাকলেও কোনো শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই। সবগুলো ক্লাসরুমই ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ক্লাস চলাকালীন সময়েও ফাঁকা পড়ে থাকা মতলব উত্তর উপজেলার ২০নং ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বিদ্যালয়ের পাশেই বার্ষিক মেলা বসায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসেনি। তবে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকরাই তাদের ক্লাস না করে মেলায় যেতে বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ জানায়, “স্যারেরা বলেছে আজকে ক্লাস হবে না, তোমরা মেলায় গিয়ে খেলাধুলা কর।”

এদিকে প্রাক্‌-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তির নামে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় একাধিক অভিভাবক জানান, সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হলেও চা-নাস্তা, ফাইল ও কাগজপত্রের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় গড়িমসি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, “বাচ্চাকে ভর্তি করাতে গেলে বলা হয় কিছু টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে ভর্তি নিয়ে নানা অজুহাত দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোহানা ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা লতিফা আক্তার বলেন, “প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এখানে বার্ষিক মেলা হয়। মেলার কারণে আজ শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসেনি। তবে শিক্ষকরা সবাই উপস্থিত ছিলেন।”

ভর্তির নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “ভর্তির সময় অভিভাবকরা স্বেচ্ছায় চা-নাস্তার জন্য কিছু টাকা দেন। এতে কোনো অনিয়ম নেই।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুসুম মনি জানান, “আমি কিছুদিন আগে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম লক্ষ্য করেছি। ক্লাস ফাঁকি ও ভর্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ