জামায়াতসহ ১০ দলের নির্বাচনী সমঝোতা চূড়ান্ত

এনসিপি ও এলডিপি যুক্ত হওয়ার ঘোষণা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আট দলের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। এ সমঝোতায় কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এলডিপি) যুক্ত হয়েছে। ফলে এই জোট এখন ১০ দলের নির্বাচনী সমঝোতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় জীবনের এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এই সংকটময় মুহূর্তে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আট দল একসঙ্গে কাজ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন আরও দুটি দল—এলডিপি ও এনসিপি—এই সমঝোতায় যুক্ত হলো।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, এনসিপির সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেই বৈঠক শেষ হয়েছে। সময় ও সুযোগের অভাবে এনসিপির নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরাসরি আট দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এনসিপি নিজস্ব দলীয় ফোরামে আলোচনা শেষে আলাদা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াত আমির বলেন, ১০ দল একটি শক্ত ও মজবুত নির্বাচনী সমঝোতায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সারা দেশের ৩০০ আসনে প্রার্থী নির্ধারণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুটি দলের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত আলোচনা বাকি আছে। তিনি আরও জানান, আরও অনেক দল এই সমঝোতায় যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও সময় স্বল্পতার কারণে তাদের এখন সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
আসন সমঝোতার অগ্রগতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের আসন সমঝোতা অলমোস্ট কমপ্লিট। সামান্য কিছু বিষয় বাকি রয়েছে, যা আমরা নমিনেশন ফাইল করার পর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ সুন্দরভাবে সমাধান করতে পারব।” তিনি এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সময় হাতে দেড় মাসেরও কম সময় রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দলগুলো একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। নির্ধারিত তারিখেই কোনো রকম হেরফের ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো সব দলের জন্য সমতল মাঠ তৈরি হয়নি। ভয়-ভীতি, লোভ-লালসা কিংবা পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে উঠে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আগামী নির্বাচনে কেউ ভোটাধিকার হরণ করতে চাইলে জাতি তা বরদাশত করবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে আসন বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিস্তারিত শিগগিরই জানানো হবে। নতুন দল যুক্ত হওয়ায় এটি কেবল নির্বাচনী জোট কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এটা দেশ গঠনের জোট, রাজনৈতিক জোট এবং নির্বাচনী সমঝোতা—সব উদ্দেশ্যই এতে অন্তর্ভুক্ত।”
ভবিষ্যতে আন্দোলনেও দলগুলো একসঙ্গে থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির জানান, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনেও থাকবে। তবে নিজ নিজ দলীয় কর্মসূচিও চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলা হয়, কোনো একক দল আসন বণ্টন করবে না; ন্যায্যতার ভিত্তিতেই সবাই সবাইকে আসন ছাড় দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমিরের পাশে বসে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তবে তিনি বক্তব্য দেননি। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি জানান, নতুন দুই দল যুক্ত হওয়ায় এটি এখন ১০ দলের নির্বাচনী সমঝোতা হিসেবে পরিচিত।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ সমমনা জোটের নেতৃবৃন্দ।