এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন না —— নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন জুলাই আন্দোলনের এক সংগঠক
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে বক্তব্য দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এক সংগঠক। তিনি জানিয়েছেন, নাগরিক কমিটি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতৃত্বে সংগঠিত হলেও তিনি এখন আর এনসিপির অংশ হচ্ছেন না।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত দেড় বছর ধরে নাগরিক কমিটি ও এনসিপির সঙ্গে যুক্ত তাঁর জুলাই সহযোদ্ধারা এসব সংগঠনে থাকায় তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ, নির্দেশনা ও নীতিগত সহযোগিতা করে গেছেন। নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবেলা, রিকনসিলিয়েশন এবং দায়-দরদের সমাজ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তিনি ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছেন, যা এনসিপি ও নাগরিক কমিটির নেতারাও বিভিন্ন সময়ে উচ্চারণ করেছেন।
তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—এসব নীতি ও অবস্থান বাস্তবে তারা কতটা ধারণ করতে পেরেছেন? তাঁর ভাষায়, এনসিপিকে একটি “বিগ জুলাই আম্ব্রেলা” হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে দাঁড় করানোর জন্য তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় তাঁর জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ ও বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি এনসিপির অংশ হচ্ছেন না। জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে তাঁর কাছে কোনো প্রস্তাব আসেনি—এমন কথা সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু ঢাকার কোনো একটি আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখাকেই তিনি অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
তিনি মনে করেন, ইতিহাসের এই পর্যায়ে বাংলাদেশ এক ধরনের শীতল যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজস্ব বক্তব্য ও নীতিতে অটল থাকাই সবচেয়ে শ্রেয় সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, বিকল্প তরুণ ও জুলাই শক্তির সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে যে নীতি ও অবস্থানের কথা তিনি বলেছেন, তা তিনি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক—সব মাধ্যমেই অব্যাহত রাখবেন। এ যাত্রায় যারা যুক্ত হতে চান, তাদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত শুধু সম্ভবই নয়, বাস্তবও। একই সঙ্গে বিকল্প ও মধ্যপন্থী তরুণ/জুলাই শক্তির উত্থান অত্যাসন্ন।