শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে বোরহানউদ্দিনে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল
বোরহানউদ্দিন থেকে
আশরাফুল ইসলাম সোহেল।
শাকসু (ছাত্র সংসদ) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে এবং অনতিবিলম্বে শাকসু নির্বাচন বাস্তবায়নের দাবিতে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখা।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) বাদ আছর উপজেলার দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শুরু হওয়া মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ছবি: বোরহানউদ্দিন থেকে
আশরাফুল ইসলাম সোহেল
মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা শাকসু নির্বাচন অবিলম্বে ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম শাকসু নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত বাস্তব কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শাকসু কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের এক নেতা বলেন, শাকসু নির্বাচন স্থগিত রেখে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। যতদিন না শাকসু নির্বাচন বাস্তবায়ন হবে, ততদিন এই আন্দোলন চলমান থাকবে। কোনো শক্তি বা চাপ দিয়ে এই আন্দোলন দমন করা যাবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
আরেক বক্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে না। শাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বলেন, আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। শাকসু নির্বাচন আমাদের অধিকার—এটি কোনো অনুগ্রহ নয়।
মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের উদ্দেশে দ্রুত শাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। শেষে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।