চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে ২২ হাজার ১২০ পিস ইয়-াবা উদ্ধার করেছে জেলা মা-দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। উদ্ধার হওয়া ইয়-াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ সময় একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নুরুল্লাপুর এলাকার একটি ভবনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়-াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় বাসাটি খালি ছিল। ফলে ইয়-াবাগুলো কার এবং কী উদ্দেশ্যে বাসাটিতে মজুত করা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মা-দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ ইয়-াবা মজুত থাকার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে বাসাটিতে তল্ল-াশি চালিয়ে ২২ হাজার ১২০ পিস ইয়-াবা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মো. ফারহান রানা নামে এক যুবক প্রায় তিন মাস আগে মাসিক ৮ হাজার টাকা ভাড়ায় বাসাটি নেন। বাসা নেওয়ার সময় তিনি নিজেকে মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বসবাস করবেন বলে বাড়ির মালিককে জানিয়েছিলেন।
বাড়ির মালিক আবুল হাসনাত জানান, বাসা নেওয়ার পর ফারহান সেখানে সোফা, খাট, ফ্রিজ, এসিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র রাখেন। তার সঙ্গে একজন প্রাইভেটকার চালকও থাকতেন।
তিনি বলেন, ভাড়াটিয়া নিজেকে মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় তাকে নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ হয়নি। পরে ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়-াবা উদ্ধারের ঘটনায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন।
তবে ফারহান রানা ওই ইয়-াবার সঙ্গে সরাসরি জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি মা-দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানের সময় বাসাটি খালি থাকায় ফারহান সেখানে ছিলেন কি না এবং বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মা-দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা ইয়-াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। ইয়-াবাগুলোর উৎস, কারা বাসাটিতে এগুলো মজুত করেছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক মাস ধরে ওই বাসায় লোকজনের যাতায়াত থাকলেও সেখানে বিপুল পরিমাণ মা-দক মজুত করা হতে পারে—এমন কোনো ধারণা তাদের ছিল না। আবাসিক ভবনের একটি ভাড়া বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়-াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে মা-দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।