গভীর রাতে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী
নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব এবং নির্ধারিত সময়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে গভীর রাতে মাঠে নেমেছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ১১টায় তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সিসিকের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মধ্যরাতে মন্ত্রীর এমন তদারকি কার্যক্রম স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাত ১১টায় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নগরীর কুশিঘাট এলাকায় উপস্থিত হন। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির এসফল্ট ব্যবহার করে চলমান সড়ক সংস্কার ও কার্পেটিং কাজের প্রতিটি দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কাজের মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করার পাশাপাশি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারি কাজের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই মানের সঙ্গে আপস করা চলবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সর্বোচ্চ মান বজায় রেখেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার টেকসই ও জনকল্যাণমুখী উন্নয়নে বিশ্বাসী। জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দেশজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এবং নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে খুব শীঘ্রই সিলেটে বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।”
এ সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নগরীর সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, “সিলেটকে আধুনিক পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিসিক বদ্ধপরিকর। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে আমরা নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে মানসম্মত উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। রাতের বেলায় এই আকস্মিক পরিদর্শন কাজের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আরও বাড়িয়ে দেবে।”
কুশিঘাট এলাকার কাজ পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী নগরীর অভিজাত এলাকা উপশহরে যান। সেখানে এসফল্ট দিয়ে সম্পন্ন হওয়া নবনির্মিত সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল ও রোড মার্কিংয়ের চলমান কাজ ঘুরে দেখেন। রাতের আলোয় রোড মার্কিংয়ের নিখুঁত ও মানসম্মত কাজ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নগরবাসীর যাতায়াত নিরাপদ করতে এ ধরনের কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন।
গভীর রাতের এই আকস্মিক পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রজি উদ্দিন খান ও শামসুল হক পাটোয়ারী, নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দেবসহ সিসিকের বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মন্ত্রীর এমন ব্যক্তিগত তদারকি ও ত্বরিত দিকনির্দেশনা সিলেটের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গুণগত মান রক্ষা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।