তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

বান্দরবানে ইটভাটা বন্ধ, বাড়তি দামে ইট; ব্যাহত উন্নয়ন, সংকুচিত কর্মসংস্থান।

Desk Editor 3 hours আগে | ১০:১৯ AM

বান্দরবানে ইটভাটা বন্ধ, বাড়তি দামে ইট; ব্যাহত উন্নয়ন, সংকুচিত কর্মসংস্থান।

 

 

মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:

পাহাড়, বন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ইটভাটা না থাকায় নির্মাণসামগ্রীর সংকট, বাড়তি ব্যয় ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বাড়িঘর নির্মাণ—সব ক্ষেত্রেই ইটের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে পার্শ্ববর্তী জেলার ওপর। ফলে ইটের দাম ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বিজ্ঞাপন

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, দেশের অন্যান্য জেলায় ইটভাটা থাকলেও বান্দরবানে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইট উৎপাদনের সুযোগ কেন তৈরি করা হচ্ছে না?

অভিযোগ রয়েছে, বান্দরবান সদর উপজেলার সোয়ালক, মাঝেরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ের মাটি ও গাছ সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, কেরানীহাটসহ বিভিন্ন এলাকার ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় পাহাড় ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ সেসব এলাকার উৎপাদিত ইটই আবার বেশি দামে কিনে বান্দরবানে আনতে হচ্ছে। ফলে ইটভাটা না থাকার কারণে পরিবেশের প্রকৃত সুরক্ষা কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

 

বান্দরবান সদর, রুমা, থানচি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা—জেলার প্রতিটি উপজেলায় সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণে ইটের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় উৎপাদনব্যবস্থা না থাকায় বাইরের জেলা থেকে ইট আনতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষ পড়ছেন বিপাকে।

 

বিজ্ঞাপন

ইটভাটাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক, গাড়িচালক, পরিবহনশ্রমিক, মাটি সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে এ ব্যবস্থা না থাকায় সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের অভাবে অনেকে বেকারত্বের শিকার হচ্ছেন, কেউ কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছেন।

বিজ্ঞাপন

 

লামা উপজেলার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ❝নিজের বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে বাইরে থেকে ইট আনতে হয়। ইটের দাম, গাড়িভাড়া ও শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে নির্মাণব্যয় অনেক বেড়ে যায়। পরিবেশের ক্ষতি না করে নিয়ম মেনে ইট উৎপাদনের ব্যবস্থা করা গেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

 

বিজ্ঞাপন

শ্রমিক বজলুল রশিদ বলেন, ❝ইটভাটা চালু হলে শ্রমিক, গাড়িচালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো কাজ আমরা চাই না।

 

রুমা উপজেলার মংক্যাচিং মারমা বলেন, ❝দূর থেকে ইট আনতে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। পরিবেশ রক্ষা করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ব্যবস্থা করা গেলে পাহাড়ি এলাকার মানুষের জন্য ভালো হতো।

বিজ্ঞাপন

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমান বলেন, “বান্দরবানে নির্মাণকাজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু ইটের জন্য বাইরের জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়।

 

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।”

 

স্থানীয়দের দাবি, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিবেশগত সমীক্ষা করে ইট উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করা হোক।

বিজ্ঞাপন

 

আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে একদিকে নির্মাণ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও জেলার উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

বিজ্ঞাপন

বান্দরবানবাসীর প্রত্যাশা, পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাহাড় ও প্রকৃতি রক্ষা করেই গড়ে উঠুক কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা।

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ