মোঃ বাবুল মিয়া ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধূকে (৩৮) দলবদ্ধ ধর-্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি এবং গৃহস্থালি লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার এক গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে মো. রাজীব (২৩) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে শরীফ ও আরিফসহ পাঁচজনের একটি সংঘবদ্ধ দল প্রবাসীর বাড়ির দরজায় এসে পানীয় জল চায়। এ সময় প্রবাসীর স্কুলপড়ুয়া ছেলে দরজা খুললে দুর্বৃত্তরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। পরবর্তীতে তারা ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। একপর্যায়ে কিশোরকে আটকে রেখে তার মাকে পালাক্রমে ধর-্ষণ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্-যাতন চলাকালে অভিযুক্ত রাজীব তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে এই দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা দাবি করে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার সময় স্বজন ও ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গভীর রাতে অভিযানে নামে। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন স্থান থেকে রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাকি চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটকের সময় রাজীব ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মুঠোফোন-টি পার্শ্ববর্তী জল-াশয়ে ফেলে দিলে পরবর্তীতে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রবাসীর বড় মেয়ের বিয়ের পর ছোট ছেলেকে নিয়ে ওই নারী বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এই নির্জনতার সুযোগ নিয়েই স্থানীয় বখাটেরা এই নৃ-শংস অপরাধ সংঘটিত করেছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস জানান, ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী দুজন সরাসরি নির্-যাতন চালিয়েছে এবং অন্য সহযোগীরা পাহারায় ছিল। গ্রেপ্তারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত মুঠোফোন-টি জব্দ করে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগটিকে মামলায় রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।