মো: কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
০১ অক্টোবর ২০২৬ ইং।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের উপর দিয়ে নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতুর পাশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে ব-ালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। অবৈধভাবে ব-ালু উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন ঝুঁকিতে পড়ছে নির্মাণাধীন সেতুটি অন্যদিকে ঝুঁকিতেও পড়েছে দুধকুমার নদের তীর রক্ষা বাঁধ ও ফসলি জমিগুলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ১৩০ বছরের পুরোনো একটি রেল সেতু রয়েছে সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কে দুধকুমার নদের উপর দিয়ে। সেতুটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এর দক্ষিণে ২০১৯ সালে ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ দশমিক শূণ্য ১৫ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
অভিযোগ রয়েছে, লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণধীন সেতুটি ঝুঁকিতে ফেলে দুধকুমার নদের পানি উন্নয়ন বোর্ডের তীর রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন স্থানে তিন-টি (৩) ড্রেজার মেশিন বসিয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ব-ালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে।
গোপন সূত্রে জানা যায়, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের আওয়ামিলীগ সভাপতির ভাই আলম হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল রাজ্জাক সরকার ও লেবু মিয়ার নেতৃত্বে এই অবৈধ ব-ালু উত্তোলন হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবৈধ প্রভাব ও নেতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র নিয়মিত ব-ালু উত্তোলন করছে। এর ফলে ভারি বৃষ্টিপাতে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজুর রহমান, রফিকুল ও জালালসহ আরও একাধিক ব্যক্তি বলেন, সোনাহাট সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণে পাউবো ব্লক ফেলে দুধকুমার নদীর ভাঙন প্রতিরোধে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে। নদের তীর সংলগ্ন স্থানের ব্লকের পাশে ও নির্মাণাধীন সেতুর পশ্চিমে অবৈধভাবে তিন-টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ব-ালু উত্তোলন করছে ব-ালুদস্যুরা। এতে করে তীর রক্ষা ব্লকগুলো স্থানচ্যুতি হচ্ছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদের তীর রক্ষা বাঁধটি। স্থানীয়দের মতে, সেতু ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধের পাশাপাশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের বসতভিটা, ফসলি জমিগুলো।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, এসব সম্ভাবনা সমস্যা ও ক্ষতিকে তোয়াক্কা করছে না ব-ালুদস্যুরা। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষমতার প্রভাবের কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করছে পাড়ছে না স্থানীয়রা।
অবৈধ ব-ালু উত্তোলনের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার নিজস্ব পুকুরের তলা সমান করার জন্য আমার একটি ড্রেজার চলছে।
অপর আরেক ব-ালু উত্তোলনকারী আলম হোসেন জানান, তার ড্রেজার কয়েকদিন থেকে বন্ধ রয়েছে। তিনি ড্রেজার সরিয়ে নিবনে বলে জানান।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, এটা বন্ধ করা পুলিশের কাজ না। প্রশাসন চাইলে আমরা পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা দিতে পারবো।
উপজেলার নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ জানান, এ বিষয়ে সহকারি কমিশনার ( ভূমি) কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।