বান্দরবানে মোবাইল নিয়ে দ্বন্দ্ব, দা-এর কোপে শ্রমিক নি-হত, মাথা বিচ্ছিন্ন মর-দেহ উদ্ধার
মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে বিরোধের জেরে মো.নাসির (১৯) নামে এক আমবাগান শ্রমিককে দা দিয়ে কুপ-িয়ে হত-্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সহকর্মী মানিকের (২৪) বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২১আগস্ট) বিকেলে ব্রিকফিল্ড বাজার এলাকার একটি আমবাগান থেকে নাসিরের মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মর-দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর অভিযুক্ত মানিক পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুর ৩টার দিকে টংকাবতী ইউনিয়নের ব্রিকফিল্ড বাজার এলাকার ওই আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাজের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে নাসির ও মানিকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে মানিক দা দিয়ে নাসিরের ঘাড়ে কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত-্যু হয়। পরে মানিক বাগান থেকে পালিয়ে পাশের জঙ্গলের দিকে চলে যান।
টংকাবতী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অর্ণব জানান, মোবাইল ফোন ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দুই শ্রমিকের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই নাসিরকে হত-্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মায়াং ম্রো ও ইউপি সদস্য মেংথাং ম্রো জানান, আমবাগানে কাজ করার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে নাসির ও মানিকের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে মানিক দা দিয়ে নাসিরকে কুপ-িয়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মর-দেহ উদ্ধার করে। বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ জানান, মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এক শ্রমিকের মর-দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মর-দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নি-হত নাসির কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা। অভিযুক্ত মানিক চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে মানিক পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
হত-্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয়রা জানান, আমবাগান-টি পাঁচ বছরের জন্য ২০ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন ইউসুফ ও আবছার নামে দুই ব্যবসায়ী। শুক্রবার সেখানে কাজ করতে আটজন শ্রমিক এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে নাসির ও মানিকও ছিলেন। কাজ শুরুর পর থেকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে তাঁদের মধ্যে কয়েক দফা বিরোধ হয়। সহকর্মীরা কয়েকবার তাঁদের বিরোধ থামিয়ে দিয়েছিলেন।