মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাসনিম জারার ক্ষোভ, সরকারের কাছে প্রশ্ন?
ডেস্ক রিপোর্ট :
মিরপুরের প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার—যেখানে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নআয়ের মা ও শি-শুদের স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রম চলছিল। রাতের আঁধারে হা-মলা, লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছেন তাসনিম জারা।
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙতে যখন দুই শতাধিক মানুষ ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলো, তখন পুলিশ কী করছিল?
তার বক্তব্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা শি-শুদের টিকাদান কার্যক্রম। তার প্রশ্ন, লুট হয়ে যাওয়া সরকারি টিকার রেজিস্টারে কোন শি-শু কোন টিকা পেয়েছে, আর কার কোন ডোজ বাকি—সেই তথ্য এখন কীভাবে উদ্ধার হবে?
শুধু তাই নয়, কেন্দ্র থেকে দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের গর্ভবতী নারীরা এখন কম খরচে কোথায় এই সেবা পাবেন—সেই প্রশ্নও সামনে এনেছেন তিনি।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—সরকারের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম সেখানে শুরু হওয়ার কথা ছিল। অথচ তার আগেই কেন্দ্রটি ধ্বংস করা হয়। পরদিন অবশ্য ধ্বংসপ্রাপ্ত কেন্দ্রের সামনে ত্রিপল টাঙিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানোর খবরও এসেছে।
তাসনিম জারার প্রশ্ন—
এক. থানার কাছাকাছি এলাকায় এত বড় একটি স্থাপনা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটল কীভাবে? কেন্দ্রের লোকজন পুলিশকে জানানোর পরও কেন স্থাপনাটি রক্ষা করা গেল না?
দুই. দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা হয়ে থাকলে, এর পেছনে কারা ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
তিন. যদি রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তদন্তে তা কতটা গুরুত্ব পাবে? শুধু দলীয় বহিষ্কার নয়—অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?
চার. সরকারি ইপিআই টিকা ও টিকার রেজিস্টার লুটের অভিযোগের পর, যেসব শি-শুর টিকাদানের তথ্য হারিয়ে গেছে—তাদের তথ্য পুনরুদ্ধার ও পরবর্তী ডোজ নিশ্চিত করবে কে?
ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেও তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাকে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে ডিএমপি।
মিরপুরের এই ঘটনা তাই শুধু একটি ভবন ভাঙার ঘটনা নয়—এটি স্বাস্থ্যসেবা, শি-শুদের টিকাদান এবং সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখন মানুষের অপেক্ষা—তদন্তে আসলে কী বেরিয়ে আসে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
#খবরটিভি #খবরেরপেছনেরখবর #মিরপুর #স্বাস্থ্যসেবা #রাড্ডা #টিকাদান #শি-শুস্বাস্থ্য #তাসনিমজারা #ঢাকা