তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

শীতের আগমনী বার্তা, খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছিরা

 

 

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে গ্রামবাংলায় শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। শীতের মিষ্টি রস ও ঐতিহ্যবাহী গুড় তৈরির আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, কাজিপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার গাছিরা। খেজুর গাছের ডালপালা পরিষ্কার, মাথা ছাঁটাইসহ নানা পরিচর্যার মাধ্যমে রস সংগ্রহের উপযোগী করে তুলছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন এলাকায় গাছিরা খেজুর গাছের মাথা ও আশপাশের ডালপালা পরিষ্কার করছেন। শীতের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই গাছ প্রস্তুতের কাজ শেষ করতে চান তারা।

বিজ্ঞাপন

গাছিরা জানান, খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য প্রথমে গাছের মাথা পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট অংশ কেটে শুকিয়ে নিতে হয়। পরে সেই অংশ আবার কেটে নলি বসিয়ে মাটির হাঁড়ি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বিকেল থেকে হাঁড়ি বাঁধার কাজ শুরু হয়। এরপর কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে সংগ্রহ করা হয় সুস্বাদু খেজুরের রস।

তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের সগুনা গ্রামের গাছি মোবারক হোসেন জানান, সাধারণত কার্তিক মাসে খেজুর গাছ প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়। তবে এবার শীতের আগমনী বার্তা পেয়ে কিছুটা আগেই গাছ প্রস্তুত করছেন। একটি গাছ সম্পূর্ণ প্রস্তুত করতে কয়েক দিন সময় লাগে। গাছভেদে প্রতিদিন ১ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত রস পাওয়া যায়। সাধারণত একটি গাছ থেকে দুই থেকে তিন মাস রস সংগ্রহ করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, রস সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। প্রথম তিন দিন রস সংগ্রহের পর পরবর্তী তিন দিন বিরতি দেওয়া হয়। রস সংরক্ষণের জন্য মাটির হাঁড়ি ব্যবহার করা হয়। হাঁড়ির ভেতরে চুনের প্রলেপ দেওয়া হলেও কাঁচা রস সংগ্রহের ক্ষেত্রে চুন ব্যবহার করা হয় না।

বিজ্ঞাপন

অপর গাছি আমির আলী জানান, আগের তুলনায় এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বর্তমানে একজন গাছি সাধারণত ২০ থেকে ৩০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। কারও নিজের গাছ থাকলেও অধিকাংশ গাছিকে অন্যের গাছের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রতিটি গাছের জন্য মালিককে মৌসুম শেষে ৭ থেকে ৮ কেজি লালি গুড় অথবা এক হাজার টাকা দিতে হয়।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছের জন্য বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। তবে পরিত্যক্ত জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খেজুরের বাগান গড়ে তোলা গেলে কৃষকেরা রস ও গুড় উৎপাদনের মাধ্যমে বাড়তি আয় করতে পারবেন।

খেজুরের রস শুধু শীতের একটি সুস্বাদু পানীয় নয়, এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অংশ। তাই খেজুর গাছ সংরক্ষণ এবং নতুন গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে একদিকে যেমন হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে আসবে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ