তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

পদ্মার বুকে দুই শতকের ঐতিহ্য, দিঘিরপাড়ের ভাসমান পাটের হাটে কোটি টাকার বেচাকেনা

Liton mahmud 4 hours আগে | ০৮:২০ AM

লিটন মাহমুদ, মুন্সীগঞ্জ। 

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় বাজারে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রায় দুই শতকের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পাটের হাট। পদ্মা নদীর বুকে সারি সারি পাটভর্তি ট্রলার, কৃষক-ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক এবং দরদামের কোলাহলে সপ্তাহে দুই দিন মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

প্রতি শুক্র ও সোমবার বসা এ হাটে প্রতিবারই এক কোটি টাকার বেশি পাটের বেচাকেনা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাজার সমিতি সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে প্রায় ২০০ বছর আগে দিঘিরপাড়ের এ ভাসমান পাটের হাটের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিবছর জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে প্রায় তিন মাস ধরে চলে এ মৌসুমি হাট। প্রতিটি হাটে চার থেকে পাঁচ হাজার মণ পাট বিক্রি হয়। মানভেদে প্রতি মণ পাটের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা নদীতে শতাধিক ট্রলারে করে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পাট নিয়ে এসেছেন। মুন্সীগঞ্জ ছাড়াও শরীয়তপুর, চাঁদপুর, ফরিদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এখানে পাট বিক্রি করেন। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব পাট কিনে দেশের বিভিন্ন পাটকল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেন।

শরীয়তপুরের কাঁচিকাটা এলাকার পাটচাষি সবুজ দেওয়ান বলেন, আমাদের কয়েক পুরুষ ধরে এই হাটে পাট বিক্রি করে আসছে। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে এখানে আসতাম। এখন নিজেও আসি। অন্য বাজারের তুলনায় এখানে কিছুটা বেশি দাম পাওয়া যায়।

রাজাবাড়িচরের কৃষক মাসুদ হালদার জানান, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও এ বছর পাটের দাম তুলনামূলক ভালো। তিনি এদিন ১২ মণ পাট প্রতি মণ ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মুন্সীগঞ্জের পাটচাষি ও ব্যবসায়ী দাদন খালাসী বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি হাটে তিনি প্রায় ১০০ মণ পাট বিক্রি করেছেন। নিজের উৎপাদিত পাটের পাশাপাশি অন্য কৃষকদের কাছ থেকে কেনা পাটও বিক্রি করেছেন। বাজারে চাহিদা থাকায় এবার ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী শাহাদাত বেপারী বলেন, উন্নত মানের পাট প্রতি মণ ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা, মাঝারি মানের পাট ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং নিম্নমানের পাট ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। তাঁর মতে, চলতি মৌসুমে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই লাভবান হচ্ছেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর থেকে বাবার সঙ্গে পাট কিনতে আসা তরুণ ব্যবসায়ী রিফাত বলেন, এটি আমাদের পারিবারিক ব্যবসা। ভাসমান হাট থেকে সরাসরি ট্রলারে পাট কিনে নৌপথেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো যায়। এতে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ কমে যায়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাজার সমিতির এক সদস্য জানান, দিঘিরপাড়ের ভাসমান পাটের হাট শুধু একটি বাজার নয়, এটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাজারের সুনাম ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাজার কমিটি নিয়মিত কাজ করছে। ভবিষ্যতে দেশের আরও বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের মতে, নদীকেন্দ্রিক এই ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পাটের হাট কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রায় দুই শতকের ইতিহাস বয়ে চলা দিঘিরপাড়ের এই হাট আজও দেশের অন্যতম ব্যতিক্রমী ও প্রাণবন্ত পাটবাজার হিসেবে নিজের স্বকীয়তা ধরে রেখেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ