চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ১ নং কানুদী মনোহরখাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী ওরফে রিপন মাস্টার, পিতা- মৃত মতিন পাটোয়ারী, গ্রাম- রংয়ের গাঁও, পোস্ট- বাবুরহাট, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে হয়র-ানি ও মানহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় চাকরি নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নারী ও শি-শু নির্-যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, চাঁদপুরে দায়ের করা একটি মামলায় আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকে আসামি করা হয়। গত ৯ আগস্ট ২০২৬ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে পরদিন ১০ আগস্ট আদালত থেকে তিনি জামিন লাভ করেন।
আনোয়ার হোসেনের দাবি, পারিবারিক জায়গা জমি পথঘাট বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে মামলাটি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে যে মেডিকেল সনদ উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে বিচারাধীন থাকায় বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমেই হবে।
গ্রেপ্তারের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে আনোয়ার হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে, মামলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রপত্রিকায় তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন আনোয়ার হোসেন। এসব ঘটনায় তিনি আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে কয়েকজনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। ৩ নম্বর কল্যাণপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সালামত খান দাবি করেন, মামলায় উল্লেখিত সময়ের বা আগে-পরে এলাকায় এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কখনো ঘটেনি।একই এলাকার গ্রাম পুলিশ ফারুকও বলেন, এই এলাকায় এমন কোনো ঘটনা বা ধর-্ষণচেষ্টার ঘটনা সম্পর্কে তারা কোনো তথ্য পাননি।
স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীও একই ধরনের দাবি করে বলেন, মামলায় উল্লেখ করা সময় ও স্থানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানেন না। তবে স্থানীয়দের এসব বক্তব্য মামলার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করে না; বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে।
আনোয়ার হোসেনের দাবি, ঘটনার দিন তিনি চাঁদপুর শহরের ব্যাংক কলোনি এলাকার ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। তার মোবাইল ফোনের যোগাযোগের তথ্য, পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে কথোপকথনসহ প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই করলে তার অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণ পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, আমি কখনোই ধর-্ষণচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। ঘটনার দিন আমি ব্যাংক কলোনির বাসায় অবস্থান করছিলাম। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে ন্যায়বিচারের দাবি জানাই।
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অত্র এনএস ১৫৬/২০২৬ নাম্বার মামলা এর বাদিনী ফাতেমা আক্তারসহ তার স্বামী মোঃ আবুল পাটোয়ারী প্রকাশ নয়ন পাটোয়ারীসহ পরিবারের সদস্য এবং আত্বীয় স্বজনসহ অত্র মামলার সকল সাক্ষীদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর বিজ্ঞ অত্র আদালতে ও চাঁদপুর সদর মডেল থানা যার মামলা নাম্বার সিআর ৩৭৯/২০২৫, দন্ডবিধি মোকদ্দমা নম্বর ১২৬/২৬। জিডি নাম্বার ১৫৬২ এবং অভিযোগ নং আর এস ৭৪২ বিচারিক ও তদন্তাধীন চলমান রয়েছে। তাই উক্ত কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়র-ানি ও মানহানির ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মামলাটি বর্তমানে বিচারিক ও তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ফলে অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।