তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

বাইরে সাইনবোর্ডে দৈনিক অন্যায়ের চিত্র, ভেতরে মোড়কজাত নকল কনডম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ

Desk Editor ১৫ দিন আগে | ০৯:১১ PM

বাইরে সাইনবোর্ডে দৈনিক অন্যায়ের চিত্র, ভেতরে মোড়কজাত নকল কনডম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ

 

মোঃরফিকুল ইসলাম জিলু

সাভার ঢাকা

বিজ্ঞাপন

 

বাইরে সাইনবোর্ডে দৈনিক অন্যায়ের চিত্র, ভেতরে তৈরি ও মোড়কজাত হচ্ছিল নকল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী। সাভারের আশুলিয়ায় প্রায় ২ কোটি টাকার পণ্য জব্দ।

 

বিজ্ঞাপন

সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় দৈনিক অন্যায়ের চিত্র নামে একটি ভুয়া পত্রিকার সাইনবোর্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ের আড়ালে একটি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের কনডমসহ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী প্যাকেটজাত ও মজুত করার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

 

২৭ আগস্ট ২০২৬ রাতে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান-টি চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ২ কোটি টাকা বাজারমূল্যের পণ্য জব্দ করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান-টি কোনো বৈধ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয়। অভিযোগ, সেখানে নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী প্যাকেটজাত ও মজুত করা হচ্ছিল, যার বড় একটি অংশ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। এতে একদিকে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, অন্যদিকে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের সুযোগ না থাকায় জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার কথাও বলা হয়।

 

বিজ্ঞাপন

এই একই প্রতিষ্ঠানে আগেও অভিযান হয়েছিল। তখন ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবন-টি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার শর্তে সিলগালা খুলে দেওয়া হয় বলে প্রশাসন জানিয়েছে। এরপরও অভিযোগ, মালিকপক্ষ সেই শর্ত না মেনে গোপনে আবার য-ৌন উত্তেজক ওষুধ, নকল কনডম প্রস্তুত ও মোড়কজাতসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

 

এটি শুধু সাভার না সারা বাংলাদেশে বিচ্ছিন্ন কোনো ধরন নয়। জাতীয় পর্যায়ের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনেও একই ধরনের নকল য-ৌন উত্তেজক ওষুধ ও কনডম কারখানা সিলগালা হওয়ার পর প্রভাবের জোরে সিল খুলে পুনরায় ব্যবসা শুরু করার নজির পাওয়া যায়। অর্থাৎ সিলগালা করার পরও প্রতিষ্ঠান কীভাবে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে, সেই ঘাটতি শুধু সাভারের একার সমস্যা নয়, এটি সারাদেশেই মোবাইল কোর্টের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও পরবর্তী নজরদারির একটি পরিচিত দুর্বলতা।

বিজ্ঞাপন

 

 

প্রশাসনের অভিযানে বাইরে দৈনিক অন্যায়ের চিত্র নামের সাইনবোর্ড পাওয়া যায়, পাশাপাশি একাধিক সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ও ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। একটি প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সাংবাদিকতা বা সামাজিক সংগঠনের পরিচয় কেন সামনে রাখা হয়েছিল, সেটাও তদন্তের বিষয় হওয়া উচিত, কারণ পত্রিকার সাইনবোর্ড মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই একটি বৈধ প্রতিষ্ঠানের ধারণা তৈরি করতে পারে। এই ধরনের পরিচয় যদি কোনো অবৈধ ব্যবসাকে আড়াল করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু ভোক্তা অধিকার বা নকল পণ্যের সমস্যা নয়, এটি পরিচয়ের অপব্যবহারের প্রশ্নও তৈরি করে। তবে কোনো পরিচয় সত্যিই উদ্দেশ্যমূলকভাবে আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সেটি তদন্তেই প্রমাণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

 

প্রতিষ্ঠানের মালিক শাহাদত হোসেন শান্তু অভিযানের সময় ঢাকায় ছিলেন বলে সাভার প্রশাসন জানিয়েছে এবং তাকে ঘটনাস্থলে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, কর্মচারীরাও পালিয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে। তাই এখন তার অবস্থান শনাক্ত করে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা, কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ