নির্বাচনের ছয় মাস পরও বদলায়নি ছাতিয়াইনের মানুষের ভাগ্য, বেহাল ছাতিয়াইন–রতনপুর সড়ক
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মাধবপুরের ছাতিয়াইন থেকে রতনপুর সড়কের বেহাল দশার কোনো পরিবর্তন হয়নি—এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও যানবাহনের চালকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের অতিরিক্ত ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল করতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি রোগীদের এই সড়ক দিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার সময় দুর্ভোগ চরমে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ঝাঁকুনির কারণে রোগীদের শারীরিক কষ্ট আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির সময় বিভিন্ন যানবাহন গর্তে আটকে যাওয়া কিংবা উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু সড়কের দুরবস্থাই নয়, এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের খরচেও। সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ফলে যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাধবপুর-চুনারুঘাট আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল নির্বাচনের পর ছাতিয়াইন–রতনপুর সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর প্রায় ছয় মাস পার হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্যের নিজ এলাকা নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক সংস্কারের কাজ হতে দেখা গেলেও ছাতিয়াইন–রতনপুর সড়কটি কেন সংস্কারের আওতায় আসছে না—এ প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগকে আর উপেক্ষা না করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি, নির্বাচনের ছয় মাস পরও যদি কাজ শুরু না হয়, তাহলে ছাতিয়াইনের মানুষের ভাগ্য বদলাবে কবে?
তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল ও সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।