তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৩৩

Liton mahmud 2 hours আগে | ১০:১৬ AM

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩২৭ জনে। এ সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত-্যুও রেকর্ড করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দৈনিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৩৩ জনের মধ্যে ২৭ জনই ভর্তি হয়েছেন মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। এছাড়া গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, সিরাজদিখানে ১ জন, শ্রীনগরে ১ জন এবং টংগীবাড়ীতে ১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সময়ে নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালেই রয়েছেন ৪৪ জন। এছাড়া শ্রীনগরে ৪ জন, গজারিয়ায় ৩ জন, সিরাজদিখানে ৩ জন, লৌহজংয়ে ২ জন এবং টংগীবাড়ীতে ২ জন চিকিৎসাধীন আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ২৭ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আগস্টে সর্বোচ্চ ৯১৪ আক্রান্ত
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকলেও জুনের পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

মাসভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যা হলো—জানুয়ারিতে ২৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৩, মার্চে ২১, এপ্রিলে ৪৮, মে মাসে ৪৪, জুনে ১৭২, জুলাইয়ে ৫৫৬ এবং আগস্টে সর্বোচ্চ ৯১৪ জন। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩০ জন।

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ, জুলাই ও আগস্টের পর সেপ্টেম্বরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাত্র ১৭ দিনেই ৫৩০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালেই আক্রান্ত বেশি
জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী। এ হাসপাতালেই ডেঙ্গুতে একজনের মৃত-্যু হয়েছে।

এ ছাড়া গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪০ জন, টংগীবাড়ীতে ১১০ জন, সিরাজদিখানে ৮৭ জন, শ্রীনগরে ৬৪ জন এবং লৌহজংয়ে ৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে পারে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পাশাপাশি মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জ্বরসহ ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ