তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উল্লাপাড়ার কৃষকেরা সবুজ ঘাস চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে

শাহ আলম সরকার:

গো-খাদ্যের দাম দিনে দিনে বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার খামারিরা। গো-খাদ্য ছোলা, ভুট্টা, ভূসি, ফিড ও খড়ের দাম বেশি হওয়ায় এসব খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে কৃষক ঘাস চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

কৃষক ও খামারিরা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ঘাসের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে গরু লালন-পালন শুরু করেছে। এ জন্য ফসল কম হয় এমন অনাবাদি জমি, বাড়ির আঙিনা, পুকুর পাড়, পতিত জায়গা ও সড়কের দুই ধারে ব্যাপকভাবে ঘাস চাষ শুরু করেছে এলাকার অধিকাংশ কৃষক।

অনেক চাষিই নিজের খামারের চাহিদা পূরণ করে অন্যের কাছে বিক্রি করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। অনেকে আবার গবাদি পশুর জন্য বাড়তি খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস কিনে খাওয়াচ্ছেন। এতে দুধ দেওয়া গরুর দুধের পরিমাণ বেড়ে গেছে। খামারিরা নিজেদের খামারে ঘাসের চাষ চাহিদা তো মিঠছেই, সেই সাথে অতিরিক্ত ঘাস বিক্রি করে আয়ও করছেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘাস হিসেবে নেপিয়ার পারচুং-১, জাম্বু, জার্মান, পারা ও নেপিয়ার ঘাস চাষ হচ্ছে। ফসল ভালো হয় না এমন জমিতে অনেক কৃষক উন্নত জাতের ঘাস চাষ করে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

উল্লাপাড়া গ্যাসলাইন পাড়ার ঘাস ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া জানান, স্থানীয় খামারিরা বাজারের গো-খাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিয়ে ঘাসের ওপর ঝুঁকে পড়ছে। তিনি আরো বলেন, আমি সাড়ে চার বিঘা জমির মধ্যে নেপিয়ার পারচুং-১ জাতের সবুজ ঘাস চাষ করছি। খামারিদের কাছে বিক্রি করে বেশ ভালো আয় করছি।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের খালিয়াপাড়া গ্রামের জাফর জানান, গরুর খাদ্যের চাহিদা মিটাতে ঘাস চাষ করে থাকি। আমি ৭টি স্থানে প্রায় ৩ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করি। এই মুহুর্তে আমার এখানে ১০ জাতের ঘাস রয়েছে। পাশাপাশি নতুন কোন জাত আসলে সেটাও নিয়ে আসি। পরে ওটা যদি জমিতে ভালো ফলন হয় তখন সেটা রাখি। আর ফলন ভালো না হলে সেটা বাদ দিয়ে দেই। এভাবে আমি ঘাসের জাত ছড়িয়ে দেই।

বিজ্ঞাপন

গরুর খামারি মতিন জানান, গো-খাদ্যের দাম দিনে দিনে বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছি। গো-খাদ্য ছোলা, ভুট্টা, ভূসি, ফিড ও খড়ের দাম বেশি হওয়ায় এসব খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে খামারিরা ঘাস চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

কয়ড়া ইউনিয়নের লিটন মিয়া বলেন, আমি মূলত গরু পালন করি। গো-খাদ্যের ও খড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু পালন করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ৩টি স্থানে ২ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করেছি। এতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না বলে লাভের পরিমাণ বেশি হয়। নিজের খামারের গো-খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত ঘাস বিক্রি করে পোষাতে পারব বলে আশা করছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানান, খামারিদের অনাবাদি জমি, পতিত জায়গায় উন্নত জাতের ঘাস চাষ করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। কাঁচা ঘাস খেলে গরু দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। অল্প দিনে গরু সুঠাম দেহের অধিকারী হয়। উন্নত জাতের ঘাস চাষ করে কৃষক সফলতা পেলে গো-খাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ