সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মাছের সংকটে অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি পল্লী। পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছের সরবরাহ না থাকায় শুঁটকি চাতাল ও আড়তগুলোতে আগের মতো নেই কর্মচাঞ্চল্য। এতে বিপাকে পড়েছেন শুঁটকি ব্যবসায়ী, চাতাল মালিক ও শ্রমজীবী মানুষ।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চলনবিলের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর মাছ সংগ্রহ করে শুঁটকি তৈরি করা হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে মাছের সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় শুঁটকি উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চাতালে মাছ শুকানোর পর্যাপ্ত আয়োজন থাকলেও মাছের অভাবে সেগুলো প্রায় ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
মজনু আলী নামের শুঁটকি চাতাল মালিক বলেন, মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাতালে আগের মতো কাজ নেই। মাছ পাওয়া গেলে শুঁটকি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হতো। বর্তমানে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুঁটকি উৎপাদন কমে যাওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদেরও কর্মসংস্থান কমেছে। পাশাপাশি উৎপাদন কম থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তা।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, চলনবিলে মাছের উৎপাদন ও সরবরাহের বিষয়টি মৎস্য বিভাগের নজরদারিতে রয়েছে। মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলনবিলের শুঁটকি পল্লীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে পর্যাপ্ত মাছের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সরকারি নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
চলনবিলের মাছের ওপর নির্ভরশীল এই ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি পল্লীতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।