র্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটের ওসমানীনগর থেকে দীর্ঘদিন থেকে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দ্রুত বিচার আইনের প্রধান আসামি ‘জরিফ হোসেন’ গ্রেফতার
১। র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃ-শংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে মা-দক উদ্ধার, হত-্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ-্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও যে কোন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
২। ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, বাদী মোঃ ওয়াহিদুর রহমান সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানাধীন সিকন্দরপুর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। বিবাদীগণও একই এলাকার বাসিন্দা। বিবাদীগণ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকলে বাদী তাদের উক্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। এতে বিবাদীগণ বাদীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এই জের ধরে ঘটনার দিন ২১/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত আনুমানিক ২০.০০ ঘটিকার সময় বিবাদী জরিফ হোসেন ও আছান খাঁর নেতৃত্বে অন্যান্য বিবাদীগণ দলবদ্ধভাবে বাদীর বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় বিবাদীগণ লোহার সাবল, দা, লাঠি, হেমাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ত্রাস ও আতঙ্কের সৃষ্টি করে এবং বাদীর বসতবাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে তারা বসতঘরের গেট ভাঙার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাদীর বসতবাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। এতে বাদী তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঘরের এক কোণে আত্মগোপন করে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে বিবাদীরা দলবদ্ধভাবে বাদীর চাচাতো ভাই জয়নাল হোসেনের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ঘরের গেট জোরপূর্বক ভাঙচুর করে। একই সময়ে বিবাদীগণ সাক্ষী দুলাল মিয়ার বসতঘরে প্রবেশ করে সিলেটের আলমিরা ও কাঠের খাটের দরজার ভাঙচুর করে। অতঃপর বাদীর বাড়ির সামনে অবস্থিত শাহ হেলিম উল্লাহ (রহঃ)-এর পবিত্র মাজারের দানবাক্স ভেঙে এর ভেতরে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে যায়। একপর্যায়ে বিবাদীগণ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে প্রচণ্ড শব্দ, হৈ-হুল্লোড় ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। উক্ত ঘটনায় বাদী সিলেটের ওসমানীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
৩। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সদর কোম্পানি, সিলেটের একটি আভিযানিক দল ১৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ আনুমানিক রাত ২১.৩০ ঘটিকার সময় সিলেট জেলার ওসমানী নগর থানাধীন সিকন্দরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানার মামলা নং-১৪, তারিখ-২৭/০৭/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০২ এর ৪/৫; এর মূলে সিলেটের ওসমানীনগর থেকে দীর্ঘদিন থেকে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দ্রুত বিচার আইনের এজাহারনামীয় ০১নং পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি- জরিফ হোসেন @ আছান খাঁ (৬০), পিতা-মৃত আব্দুল হোসেন, সাং-সিকন্দরপুর, পশ্চিমপাড়ী, থানা-ওসমানীনগর, জেলা-সিলেট।
৪। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।