তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

লামায় তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার আহ্বান

Desk Editor 6 minutes আগে | ০১:১৩ PM

লামায় তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা
বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার আহ্বান

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামায় তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থা, সাংবাদিক, স্থানীয় অংশীজন ও তামাক চাষিদের অংশগ্রহণে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় লামা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে কারিতাস বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম অঞ্চল-এর উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার ব্যানারে তামাক চাষের বিরূপ প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শাহাজাহান আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুপসীপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম। এছাড়া মৌচাক কো-অপারেটিভ লিমিটেডের প্রতিনিধি মোঃ মাসুদুল হক, এনজিও গ্রাউসের প্রতিনিধি থুইছামং মার্মা, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জের্ভাস ত্রিপুরা এবং কারিতাসের কর্মী মায়েনু রাখাইন, অংনুচিং মার্মা, শুভমিত্র বীর সিংহ চাকমাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় তামাক চাষের কারণে কৃষি, পরিবেশ, মাটি, পানি এবং কৃষকদের আর্থিক ও সামাজিক জীবনে সৃষ্ট বিভিন্ন প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে তামাক চাষের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের সবজি, হলুদ, মরিচ, কলা, ধানসহ অন্যান্য লাভজনক ও বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শাহাজাহান আলী বলেন, আজকের এই অ্যাডভোকেসি সভা তখনই সার্থক হবে, যখন আপনারা যারা বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত তামাক চাষি, তারা তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য সবজি, হলুদ, মরিচ, কলা, ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ করবেন এবং সবাইকে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করবেন।
বিশেষ অতিথি রুপসীপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম বলেন, লামায় বনভূমি ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই তামাক চাষ। তামাক চাষ বন্ধে আমাদের কঠোর হতে হবে।
মৌচাক কো-অপারেটিভ লিমিটেডের প্রতিনিধি মোঃ মাসুদুল হক বলেন, তামাক চাষ করে ভিটেমাটি হারিয়ে পলাতক হাজারো তামাক চাষি। এই তামাক চাষের কারণে লামা থেকে মানুষকে নিঃস্ব করা উচিত নয়। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
এনজিও গ্রাউসের প্রতিনিধি থুইছামং মার্মা বলেন, তামাক চাষ মানুষের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক এবং সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই তামাক চাষ ধীরে ধীরে বন্ধ করা প্রয়োজন।
সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বলেন, তামাক চাষের ভয়াবহ দৃশ্য আমাদের বর্তমান কৃষি খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দিচ্ছে। প্রতিনিয়ত বন উজাড়, পানি সংকট এবং মাটির উর্বরতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে কৃষকদের লাভজনক ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যকর সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
বক্তারা বলেন, তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত কৃষকদের একদিনে এ চাষ থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এজন্য কৃষকদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় কৃষি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও বাজা-রজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তামাক চাষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে কৃষক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় অংশ নেওয়া তামাক চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা শোনা হয়। তামাকের পরিবর্তে বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, এনজিও এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও সভায় মত দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান-টি সঞ্চালনা করেন জের্ভাস ত্রিপুরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ