তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

সীমাবদ্ধতা জয় করে ইতিহাস গড়ল লামার রাকিব, দুর্গম সাপমারা ঝিরিতে প্রথম এইচএসসিতে জিপিএ-৫

Desk Editor 1 hour আগে | ০৬:৫২ PM

সীমাবদ্ধতা জয় করে ইতিহাস গড়ল লামার রাকিব, দুর্গম সাপমারা ঝিরিতে প্রথম এইচএসসিতে জিপিএ-৫

 

নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

 

সব প্রতিবন্ধকতা ও দুর্গমতাকে জয় করে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সাপমারা ঝিরি এলাকার শিক্ষার্থী খাইরুল হাসান (রাকিব)। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সরকারি মাতামুহুরী কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ (এ প্লাস) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। তার এ অর্জনে আনন্দ ও গর্বে ভাসছে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাইরুল হাসান রাকিব লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাপমারা ঝিরি এলাকার বাসিন্দা। সে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হায়দার আলী ও কামরুন নাহার দম্পতির সন্তান। তার মা কামরুন নাহার স্থানীয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পাড়া কেন্দ্রের একজন শিক্ষিকা।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি সাপমারা ঝিরি এলাকায় এর আগে এইচএসসি পরীক্ষায় কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। রাকিবের এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে এলাকাটি প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পাওয়ার গৌরব অর্জন করল।

বিজ্ঞাপন

প্রকাশিত ফলাফলের নম্বরপত্র অনুযায়ী, রাকিব বাংলায় ১৬০, ইংরেজিতে ১৩৯, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৭৮, অর্থনীতিতে ১৪০, পৌরনীতি ও সুশাসনে ১৫৯, ইতিহাসে ১৭০ এবং যুক্তিবিদ্যায় ১৭০ নম্বর পেয়েছে। কঠোর অধ্যবসায় ও নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে সে এ সাফল্য অর্জন করেছে।

রাকিবের শিক্ষাজীবন সম্পর্কে স্থানীয় সাংবাদিক ও লামা প্রেস ক্লাবের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই রাকিব শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী। সে প্রাথমিক পর্যায়ে টিটি অ্যান্ড ডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। এরপর ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হলি চাইল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবং নবম-দশম শ্রেণি লামা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে। পরবর্তী সময়ে সরকারি মাতামুহুরী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে সে তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছে।

বর্তমানে রাকিবের স্বপ্ন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তি হওয়া। সে লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে বর্তমানে ঢাকায় কোচিং করছে।

বিজ্ঞাপন

রাকিবের এ সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন এলাকার শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা। স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও রাকিবের এ অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার সাফল্য প্রমাণ করেছে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূল পরিবেশও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।

এলাকার তরুণ সমাজকর্মী ও প্রতিনিধিরাও রাকিবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা রাকিবের মতো দুর্গম ও অবহেলিত এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

শিক্ষাজীবনের এ গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে চায় রাকিব। তার এ সাফল্যে গর্বিত সাপমারা ঝিরিসহ পুরো লামার মানুষ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ