তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

চলনবিলে অবাধে চলছে শামুক নিধন: হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য ও জলজ পরিবেশ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের চলনবিল অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে অবাধে চলছে শামুক ও ঝিনুক নিধন। এর ফলে একদিকে যেমন দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দিঘী সগুনা, কামাড়শোন, মাকড়শোন, কুন্দইল, বিল-নাদো, মান্নান নগর, ঘরগ্রাম, মাগুরা বিনোদ ও হামকুড়িয়াসহ ২০-২৫টি পয়েন্টে প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি ডিঙি নৌকায় চলছে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহের মহোৎসব। প্রতি দিন গড়ে দুই থেকে তিন টন শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ করা হচ্ছে এসব এলাকা থেকে। স্থানীয় দরিদ্র চাষি ও মৎস্যজীবীদের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব ছোট নৌকা সরবরাহ করেছেন।

স্থানীয় সংগ্রাহকরা প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩ থেকে ৪ বস্তা শামুক সংগ্রহ করেন। প্রতি বস্তা শামুক বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। সংগ্রাহকদের দাবি, বর্ষার সময়ে বেকারত্ব ও পেটের দায়ে তারা এই পেশায় জড়িয়েছেন; এতে তাদের প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়।

​এলাকায় ২০ থেকে ২৫ জন অসাধু ব্যবসায়ী এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে শামুক কিনে তা খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মাছ ও কুঁচিয়ার খামারগুলোতে মাছের খাদ্য হিসেবে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন।

বিজ্ঞাপন

চলনবিল থেকে প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকার শামুক বেচাকেনা হয়ে থাকে বলে জানা গেছে।

২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে শামুককে জলজ প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হলেও বাস্তবে এর কোনো সুফল মিলছে না। আইন অমান্য করে শামুক নিধনের দায়ে জেল ও অর্থদণ্ডের বিধান থাকলেও সঠিক প্রয়োগের অভাবে এটি থামছে না। এদিকে, মৎস্য সংরক্ষণ আইনে শামুক নিধন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারা না থাকায় মৎস্য অধিদপ্তরও সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বলেন, “শামুক জল-াশয়ের নোংরা পানির পোকামাকড় খেয়ে পানি বিশুদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি দেশীয় মিঠা পানির মাছের প্রধান প্রাকৃতিক খাদ্য। নির্বিচারে শামুক নিধনের কারণে চলনবিলের খাদ্যচক্র ভেঙে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।

​অন্যদিকে, তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, “শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে এবং প্রয়োজনে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ