জেলা প্রতিনিধি,পঞ্চগড় :
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাবুরাম দেবসিংহ (৩১) নামে এক শ্রমিকের মৃত-্যু হয়েছে। আর এ ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ৮ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে নি-হতের চাচা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ।
অভিযোগে দায়ের করা মামলা তদন্ত সহ মর-দেহের ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ঘটনা এবং মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুসা মিয়া।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা জামুড়ীতলী গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
মৃত বাবুরাম দেবসিংহ দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের বলরামপুর নিজধাম গ্রামের মৃত আর্যমোহন দেবসিংহের ছেলে।
পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় গৌতম চন্দ্র রায় নামে এক শ্রমিক দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর শ্রমিক ভাগ্য রায় সুস্থ হওয়ায় বাড়িতে চলে গিয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন, অমরখানা জামুড়ীতলী এলাকার বাসিন্দা ও শালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রাব্বি হোসেন (৩৮), বাবুল হোসেন (৪৪), জুয়েল ইসলাম (৩৩), বলরামপুর প্রগতিপাড়া এলাকার উত্তম রায় (২৮), অমরখানা জামুড়ীতলীর এলাকার লাভলী বেগম (৪২), রানা সরকার (২৬), সাইফুল ইসলাম (২৭), মজিবুল ইসলাম (৫৪)।
মামলার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে অভিযুক্ত রাব্বি ও উত্তম রায় বাবুরাম দেবসিংহকে তাদের নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংক সংস্কারের কাজের জন্য ডেকে নিয়ে যায়। সেপটিক ট্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকনা দিয়ে আবদ্ধ থাকায় ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ উঠেছে,উপযুক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না করেই এবং কোনোরূপ সতর্কতা না অবলম্বন করে অবহেলা ও দায়সারাভাবে তাকে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নামিয়ে দেওয়া হয়। ট্যাংকে নামার পরপরই বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবুরাম। সে সময় উপস্থিত অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা না করে সময় ক্ষেপণ করেন। ফলে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায় বাবুরাম। পরে আসামিরা বাবুরামের মৃত-দেহ সেপটিক ট্যাংক থেকে বের করে একটি অটো ভ্যানযোগে নি-হতের গ্রামের বাড়ি বলরামপুর নিজধামে বাড়ির উঠানে রেখে চলে আসে।
ঘটনার পরপরই দেবীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মর-দেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য দেবীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযুক্ত ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অবহেলার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করে নি-হতের চাচা।
নি-হতের চাচা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ অভিযোগ করে জানান, বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলা এবং যথাসময়ে উদ্ধার না করার কারণেই রাজমিস্ত্রি বাবুরামের এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত-্যু হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িত আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কথা হয় শ্রমিক ভাগ্য রায়ের সাথে। তিনি বলেন, হেড মিস্ত্রি বাবুরাম ও গৌতমকে সেফটি ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে বলেন। প্রথমে বাবুরাম,পরে গৌতম ভেতরে ঢোকে। তাদের বের করতে আমি ভেতরে ঢুকে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখি, আমাকে অটো যোগে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। বাবুরাম বা আমরা এর আগে কখনো সেফটি ট্যাংকের ভেতরে সেন্টারিংয়ের কাজ করিনি।
এদিকে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। তাই তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুসা মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অবহেলার অভিযোগ তুলে ঘটনার দিন রাতে মামলা দায়ের করেছে নি-হতের চাচা।
বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সাথে মর-দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।