সুনামগঞ্জে র্যাব-৯ এর অভিযানে জমি বিরোধের শ্বাসরোধ করে হত-্যার প্রধান আসামিসহ ৩ জন ২৪ ঘন্টার মধ্যে র্যাবের জালে
এরশাদুল হক
জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
ভিকটিম মোহাম্মদ আলী (৮৫) সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানাধীন সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা। ৫নং বিবাদী ইসমাইল মিয়া ভিকটিমের ছেলে এবং ১নং বিবাদী হোছনা বেগম তার পুত্রবধূ। ৫নং বিবাদী সৌদি আরবে প্রবাসী থাকায় ১নং বিবাদী তার সন্তানদের নিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। ভিকটিমের নামীয় জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তার ছেলে ও পুত্রবধূ বিভিন্নভাবে ভিকটিমের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এতে ভিকটিম রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একপর্যায়ে তারা ভিকটিমকে হত-্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে হত-্যা করার জন্য ১নং বিবাদী ২নং বিবাদী রুহুল আমিনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করে। উক্ত চুক্তি মোতাবেক আনুমানিক রাত ১১:৫০ ঘটিকার সময় ২নং বিবাদী ৩নং বিবাদী নজরুল ইসলাম এবং ৪নং বিবাদী জিয়াউর রহমান কে নিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে আসে। পরবর্তীতে তারা ১নং বিবাদীর সহযোগিতায় ভিকটিমের ঘরে প্রবেশ করে এবং তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত-্যা করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের নাতনি বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত-্যা মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জে আনুমানিক সকাল ১০.০০ ঘটিকার সময় সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানাধীন সোনাপুর সাকিনস্থ একটি বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার মামলা নং-২৪, ধারা- ৩০২/১০৯/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০; এর মূলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শ্বাসরোধ করে হত-্যা মামলার এজাহারনামীয় ০১নং পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি- হোছনা বেগম, স্বামী- ইসমাইল মিয়া, সাং- সোনাপুর, থানা- দোয়ারাবাজার, জেলা- সুনামগঞ্জ।
অপর আরেকটি অভিযানে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ২.৩০ ঘটিকার সময় সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানাধীন হাবিবনগর সাকিনস্থ একটি বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে উপরোক্ত একই মামলার এজাহারনামীয় ০২নং ও ০৩নং পলাতক আসামিদ্বয়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিন্বয়- ০১। রুহুল আমীন (২২), পিতা- খায়রুল ইসলাম ও ০২। নজরুল ইসলাম (২০), পিতা- মৃত আব্দুল কুদ্দুস, উভয় সাং- হাবিবনগর, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং উক্ত মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।