১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট, ময়মনসিংহের সবুজ প্রান্তরে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়—আজকের বাকৃবি। ছয় দশকের এই পথচলায় হাজারো কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী আর গবেষক তৈরি হয়েছেন এই ক্যাম্পাসের আঙিনায়। যাঁদের হাত ধরে বদলেছে দেশের ফসলের মাঠ, সুরক্ষিত হয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা। প্রতিষ্ঠার ৬৬তম বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে কৃষিশিক্ষার সবচেয়ে পুরোনো এই বিদ্যাপীঠকে ঘিরে তাঁদের ভাবনা, স্মৃতি আর প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন ক্যাম্পাসের প্রথমসারির ছাত্রনেতারা। যাঁরা এই আঙিনায় বেড়ে উঠেছেন, রাজনীতি করেছেন, স্বপ্ন দেখেছেন অনন্য উচ্চতার।
“কৃষিই কৃষ্টি, কৃষিই সমৃদ্ধি” — এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এক অনন্য আলোকবর্তিকা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বিদ্যাপীঠ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উচ্চফলনশীল শস্য ও নতুন জাত উদ্ভাবন অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। আগামী দিনেও আধুনিক ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান ও গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে — এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নিজেও বলেছেন, দেশের উন্নয়নযাত্রা অব্যাহত রাখতে তিনি কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রত্যাশা, বাকৃবিও গবেষণার উপযোগী পরিবেশ তৈরি, গ্রন্থাগার-সুবিধা সম্প্রসারণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি সহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মেজবাউল হক মিজু
যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি বাংলাদেশের কৃষি, গবেষণা ও কৃষকের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গৌরবময় অধ্যায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিতে বাকৃবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের সঙ্গে কৃষির চ্যালেঞ্জ বদলাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে বাকৃবিকেও আরও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী প্রজন্মের কৃষিবিদ, গবেষক ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় বাকৃবি হয়ে উঠুক আরও শক্তিশালী, আরও অনুপ্রেরণার কেন্দ্র। কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে বাকৃবির পথচলা হোক আরও গৌরবময়, আরও আলোকিত।
মো. শামীম রেজা
যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল
বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দক্ষ কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী ও পেশাজীবী তৈরির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, কৃষির বহুমুখীকরণ ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। আশা করি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে তার ঐতিহ্য সমুন্নত রাখবে এবং স্মার্ট, টেকসই ও সমৃদ্ধ কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরও কার্যকর অবদান রাখবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও বিশ্বপরিসরে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান কামনা করছি।
কৃষিবিদ মো. শাহীন আলম
যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শিখিয়েছে বিনয়ী থাকতে, নিজের চিরচেনা সত্তা ধরে রাখতে এবং মেরুদণ্ড সোজা রেখে রাজপথে আত্মপ্রকাশ করতে; আর দিয়েছে “বাকৃবিয়ান” ও “কৃষিবিদ” নামের দুটি মহামূল্যবান পরিচয়। কৃষিশিক্ষার আঁতুড়ঘর বাকৃবি দেশ ও দেশের মানুষের কাছে গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ইতিহাসের নানা সংকটকালীন মুহূর্তে বাকৃবির গবেষণা ও উদ্ভাবন ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। প্রত্যাশা করি, শিক্ষার্থীদের বিকাশ ও মান উন্নয়নে বাকৃবি সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে এবং গবেষণায় মনোনিবেশের মধ্য দিয়ে তার গৌরবের আসন অটুট রাখবে।
মো. জিল্লুর রহমান সম্রাট
আহ্বায়ক সদস্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল