তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

কর্ণফুলী নতুন ব্রিজে ৩৪ টিয়ে পাখিসহ দুইজন আটক, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে পুলিশের অভিযান

Desk Editor ১৮ দিন আগে | ০৯:৪৬ AM

কর্ণফুলী নতুন ব্রিজে ৩৪ টিয়ে পাখিসহ দুইজন আটক, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে পুলিশের অভিযান

 

নজরুল ইসলাম (লামা, বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

 

বিজ্ঞাপন

বান্দরবান থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি নাইট কোচে অভিযান চালিয়ে ৩৪টি টিয়ে পাখি, পাখি ধরার জাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নতুন ব্রিজের টোল-পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন—ময়মনসিংহের দেলোয়ার হোসাইন এবং রংপুরের মো. জামান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী নাইট কোচে তল্ল-াশি চালানোর সময় তাদের কাছ থেকে খাঁচাবন্দি অবস্থায় ৩৪টি টিয়ে পাখি উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাখি শিকারের কাজে ব্যবহৃত জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকা থেকে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও পাখি ধরে চোরাই পথে নিয়ে বিক্রি করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

 

বিজ্ঞাপন

পুলিশের এই অভিযানকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও অবৈধ পাখি শিকার বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে বন্য পাখি ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পা-চার ও বিক্রির কারণে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নির্বিচারে পাখি শিকার বন্ধ করা না গেলে প্রকৃতিতে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না; তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বীজ বিস্তার এবং বিভিন্ন কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বন্য পাখি ধরা, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বিজ্ঞাপন

 

আটক দুই ব্যক্তি বর্তমানে কর্ণফুলী নতুন ব্রিজের টোল-পয়েন্ট সংলগ্ন পুলিশ চেকপোস্টে রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ৩৪টি টিয়ে পাখির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

 

বিজ্ঞাপন

এদিকে, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্যপ্রাণী পা-চারকারী চক্রের আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং পাহাড়ি এলাকা থেকে এসব পাখি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বন্যপ্রাণী পা-চারের মূলহোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল।

 

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাহাড়ি বনাঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি, পাখি শিকার বন্ধে অভিযান এবং পা-চারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ