তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

বান্দরবানে ৬০ কোটি টাকায় পানি-স্যানিটেশন, দুর্গম পাহাড়ে কমছে পানির সংকট

Desk Editor 2 hours আগে | ০৮:৩৭ PM

বান্দরবানে ৬০ কোটি টাকায় পানি-স্যানিটেশন, দুর্গম পাহাড়ে কমছে পানির সংকট

 

 

মুহাম্মদ আলী, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি

বিজ্ঞাপন

 

পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াতে প্রায় ৬০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন সরকার। এসব প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, গভীর নলকূপ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং) ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ কমছে।

 

বিজ্ঞাপন

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই ও সমন্বিত পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’-এর আওতায় বান্দরবান পৌর এলাকায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন কাজ চলছে।

 

২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর মেয়াদের এ প্রকল্পে ৬৬৭টি নতুন হাউসহোল্ড টয়লেট নির্মাণ, ৮৬৭টি টয়লেট উন্নয়ন, পাঁচটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও আটটি সংস্কারের কাজ রয়েছে। বান্দরবান ও লামা পৌরসভায় প্রায় ২০০টি টয়লেট নির্মাণ ও সংস্কারের কাজও চলছে।

বিজ্ঞাপন

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক এলাকায় আগে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না।

 

বিজ্ঞাপন

নতুন টয়লেট নির্মাণ ও পুরোনো টয়লেট সংস্কারের ফলে বিশেষ করে নারী, শি-শু ও বয়স্কদের ভোগান্তি কমেছে।

 

সিদ্দিকনগরের বাসিন্দা মো.নাজিম উদ্দীন বলেন, নতুন স্যানিটেশন সুবিধার কারণে এলাকার পরিবেশ আগের চেয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

 

হাফেজঘোনার বাসিন্দা কামাল বলেন, দীর্ঘদিনের পানি স্যানিটেশন- সংকটের কারণে মানুষের দুর্ভোগ ছিল। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ কমছে।

 

বিজ্ঞাপন

সাত উপজেলায় ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বান্দরবানের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর মেয়াদের এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি পুরোনো জিএফএস মেরামত ও ১০টি নতুন জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, ৫০টি গভীর নলকূপ ও ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এসব অবকাঠামোর গুরুত্ব বেশি। কারণ অনেক পাড়ায় নিরাপদ পানির উৎস দূরে হওয়ায় বাসিন্দাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। কোথাও আবার ঝিরি-ঝরনার পানির ওপর নির্ভর করতে হতো।

বিজ্ঞাপন

তালুকদার পাড়ার বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি মংক্য প্রু মার্মা বলেন, আগে পানি সংগ্রহ করতে অনেক দূরে যেতে হতো। এখন এলাকায় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা হওয়ায় মানুষের সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।

রোয়াজা পাড়ার বাসিন্দা হ্নাক্রা মার্মা বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে দূর থেকে পানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এলাকায় পানির ব্যবস্থা হওয়ায় বয়স্ক মানুষসহ সবাই উপকৃত হচ্ছেন।

 

বিজ্ঞাপন

পাহাড়ি এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সহজলভ্যতা কম হওয়ায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্ষায় সংরক্ষণ করা পানি পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের সুযোগ থাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলায় এটি সহায়ক হচ্ছে।

জেলার টিএন্ডটি পাড়া, হাফেজঘোনা, নিউগুলসান, হাসপাতাল এলাকা, সিদ্দিকনগর, সুয়ালক ও হলুদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাবলিক টয়লেট, গভীর নলকূপ ও রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

 

বিজ্ঞাপন

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, পাহাড়ের মানুষের পানির দুর্ভোগ লাঘবে চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েল, রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ও জিএফএস স্থাপন করা হয়েছে। আরও দুর্গম এলাকায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্মিত এসব স্থাপনার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। তাহলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষ পাবেন এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আরও এগিয়ে যাবে বান্দরবান।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ