স্টাফ রিপোর্টার,পঞ্চগড় :
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ৬০ নং কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবন এখন বিষাক্ত সাপ, বেজি, শিয়ালসহ নানা বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসে পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও গেট না থাকায় পাশের জেমকন লিমিটেডের ভেতরের জঙ্গল থেকে এসব প্রাণী অবাধে ওই পরিত্যক্ত ঘরে ঢুকে পড়ছে। এতে চরম আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত পরিত্যক্ত ভবন-টি অপসারণ করে নতুন ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হোক। নইলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
১৯৭৩ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত হয় ৬০নং কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরবর্তীতে সরকারিভাবে দুটি একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই দুটি ভবনেই চলছে ২শত ৬ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম। তবে বিদ্যালয়ের শুরুতে নির্মিত পুরোনো জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বছরের পর বছর সংস্কার বা অপসারণ না করায় ভবন-টির ভেতরে জন্মেছে ঝোপঝাড়। আর সেখানেই বাসা বেঁধেছে বিষধর সাপ, বেজি, শিয়াল ও নানা পোকামাকড়। পাশেই সীমানা প্রাচীর না থাকা এবং জেমকন লিমিটেডের পরিত্যক্ত জঙ্গল লাগোয়া হওয়ায় প্রাণীগুলো অবাধে যাতায়াত করছে। ক্লাস চলাকালেই প্রায়ই সাপ ও বেজি বের হতে দেখা যায়, ফলে ক্লাসরুম ছেড়ে দৌড়ে পালাতে হয় শিক্ষার্থীদের।
কমলাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তারসহ শিক্ষার্থীরা বলছে পরিত্যক্ত ঘর থেকে প্রায়ই সাপ বের হয়। এতে পাশের কক্ষে ক্লাস করতে ভয়ে ভয়ে থাকে তারা।দ্রুত পরিত্যক্ত ভবন-টি অপসারণ করে নতুন ভবন,বিদ্যালয়ের চার-পাশে দেয়ালসহ গেট নির্মাণের দাবী জানায়।
আর স্থানীয় অভিভাবক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা বলছেন, দ্রুতই পরিত্যাক্ত ভাঙা ঘরটা ভেঙে ফেলা হোক আর স্কুলের চারপাশে দেয়াল দেওয়া হোক। তাহলে ভয় ছাড়া স্কুলে আসতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জ্যোতিস্ময় রায়, এ প্রতিবেদককে জানান, কমলাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবন-টি অপসারণের জন্য উদ্দেগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমাদের সরকার আমারদের কাছে সেই ভবনের তথ্য চেয়েছে। আমরা তথ্য দিয়ে দ্রুত পরিত্যক্ত ভবন-টি অপসারণ করতে পারবো।
আর শি-শুদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দদায়ক শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পরিত্যক্ত ভবন-টি অপসারণ করে নতুন ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।