তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

সাতছড়ির বনকর্মী কালা মিয়া: কাঠ পা-চারের অভিযোগ, বিপুল সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি

সাতছড়ির বনকর্মী কালা মিয়া: কাঠ পা-চারের অভিযোগ, বিপুল সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মোহাম্মদ আলী ওরফে কালা মিয়ার বিরুদ্ধে বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান কাঠ পা-চারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বিপুল সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
মোহাম্মদ আলী ওরফে কালা মিয়া মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের চারাভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম উজির আলী। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, প্রায় ২০ বছর ধরে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে কাজ করার সুবাদে বনাঞ্চলের বিভিন্ন বিষয়ে তার ঘনিষ্ঠ ধারণা রয়েছে। এই সুযোগে তিনি বিশেষ করে সেগুনসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ পা-চারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বনাঞ্চল থেকে পা-চার করা কাঠ তার বাড়িতে এনে ফার্নিচার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে এসব ফার্নিচার সরবরাহ করা হয়। তার বাড়িতে ফার্নিচারের ব্যবসা রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে কালা মিয়ার সম্পদ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তার ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। চারাভাঙ্গা মৌজার ২৮২ নম্বর দাগ ও ১৫১ নম্বর খতিয়ানের ৬ শতক জমি প্রায় ৭০ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে। এছাড়া বাড়িতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ এবং উত্তর সন্তোষপুরে ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কলোনি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
তবে এসব সম্পদের মূল্য, মালিকানা ও ব্যাংক হিসাবে অর্থ থাকার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন বনাঞ্চনে কর্মরত একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর এসব সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বনজসম্পদ পা-চারের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছে। সম্প্রতি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গাছ কাটার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ বন বিভাগের ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, ওই ঘটনায় কালা মিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, কালা মিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় আনা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আলী ওরফে কালা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। ফার্নিচারের ব্যবসা থাকলেও গাছ পা-চারের সঙ্গে আমি জড়িত নই।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দীর্ঘদিন কাজ করার পর কালা মিয়ার সম্পদের পরিমাণ কীভাবে এত বেড়েছে, তা তদন্ত করা দরকার। তাদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত হলে সম্পদের উৎস এবং কাঠ পা-চারের অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ইনচার্জ মোবারক হোসেন বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। কালা মিয়ার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে জানাব। তবে তার গতিবিধি ও চলাফেরায় এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম দেখতে পাইনি।

ছবি: বিতর্কিত বনকর্মী কালা মিয়া; পাশে তার বাড়ির ফার্নিচারের দোকান।

বিজ্ঞাপন

বার্তা প্রেরক

মোঃ নাজিমুল হাসান নাজির

মোবাইল ০১৯৭৯২৪৫৩৩৭

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ