মোঃওসমান গনি ,চট্টগ্রাম বাঁশখালী প্রতিনিধি।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়। এতে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিএনপিকে হুমকি দেবেন না, বিএনপি কারও হুমকিকে পরোয়া করে না।’ তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতিটি দলের নেতাকর্মীরা গর্ববোধ করেন।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একটি দলের ‘অভিনয়’ দেখতে দেখতে মানুষ অস্থির হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, বন্যার সময় ওই দলের একজন নেতা বাঁশখালীতে এসে পানিতে নেমেছিলেন, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর সহায়তা দিতে পারেননি। অন্যদিকে তারেক রহমান বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও-বিষয়ক ব্যূরোর মহাপরিচালক(সচিব) ও বাঁশখালীর কৃতী সন্তান ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা হিসেবে ৫১০ পরিবারের জন্য মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, তারেক রহমানের উদ্যোগে বাঁশখালীর বিভিন্ন সড়ক, কালভার্ট ও বেড়িবাঁধের উন্নয়নকাজ দ্রুত শুরু হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা পরিষদ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, জেলা বিএনপির আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া, সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহেদুল ইসলাম মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমান আহমদ, কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী, পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহাজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) লায়ন অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ কিবরিয়া আজমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।