মো: কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
১ অক্টোবর ২০২৬ ইং।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে কোনো আসন না পেলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কুড়িগ্রাম জেলাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) সকালে কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি কুড়িগ্রামকে দেশের একটি পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে উল্লেখ করে আরও বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে।
তিনি বিগত ১৭ বছরে স্বৈরাচার সরকার আমলে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন বিভাগকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে বলেও জানান। স্বৈরাচারের ১৭ বছর শাসনের ফলে দীর্ঘদিন এসব বিভাগ সঠিকভাবে কাজ করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি প্রশাসনের নানা স্তরে এখনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসামঞ্জস্য রয়ে গেছে।
তার ভাষ্যমতে, স্বৈরাচারের আমলে দীর্ঘদিনের জমা হওয়া এই অসঙ্গতি একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার জবাবদিহিমূলক কাজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং প্রশাসনকে শক্তিশালী, স্বচ্ছ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী কুড়িগ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছেন উল্লেখ করে বলেন, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মানুষের আয় বাড়বে এবং জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পরে তিনি রাজারহাট উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন ভবন উদ্বোধনের বিষয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আধুনিক অবকাঠামো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করবে। এবং সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবা পাওয়া আরও সহজ করবে। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবা সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও স্থানীয় জেলা ও উপজেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ।