হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের ঘুস গ্রহণের বিতর্কিত মন্তব্যের জের কাটতে না কাটতেই আরেক এএসআই অতনু বণিকের ঘুস গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে সরাসরি ঘুস গ্রহণের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
ভিডিও প্রকাশ পর জেলা পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে আর সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ।
চুনারুঘাট থানার এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের ঘুস গ্রহণের বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই একই থানার আরেক এএসআই অতনু বনিকের ঘুস গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে সরাসরি ঘুস গ্রহণের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই ব্যক্তি ও এএসআই অতনু বনিক কথোপকথন শোনা যায়। কথোপকথনে অতনু বনিক কে ওই ব্যক্তির কাছে টাকা চাওয়ার পাশাপাশি মামলার বিভিন্ন ধারার কথা বলে ভয় দেখাতে শোনা যায়।
ভিডিওতে অতনু বনিক কে বলতে শোনা যায়, ‘আপনার কথা আমি রাখলাম। দয়া করে কত দিছেন?’ জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘৬ হাজার টাকা। ৬ হাজার আর ৪ হাজার মোট ১০ হাজার টাকা দিছি।’
এরপর অতনু বনিক কে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, আর ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে দাও আমাকে। আমি বলি, আসামি নিয়ে যাওয়ার সময় তুমি আমাকে খরচের টাকা দিবা না? আসামি গাড়িতে যাওয়ার সময় খরচের টাকা দিবা না? সিএনজি ঠিক করো আজকে। এখন ফোন দাও, এখনই ফোন দাও। তুমি আজ রাতে ১০০ শতাংশ শিওর করবা।’
ওই ব্যক্তি টাকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানালে অতনু বনিক কে রাতে আসার সময় জানতে চাইতে শোনা যায়।
কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘৩২৪ ধারায় যদি থানায় এফআইআর হয়, কালকেই জামিন পেয়ে যাবে। আর ৩২৫, ৩০৬ এ এই মামলা মিনিমাম ৫-৬ বছর ডিল করতে হবে। আমি তো এরকম অফিসার না ভাই, ভুলভাল বোঝাতে পারব না।’
ধারণা করা হচ্ছে, ঘুষ লেনদেনের দৃশ্য গোপনে ধারণ করে কেউ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিষয়ে জানতে এএসআই অতনু বনিকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন-টি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে সহকারী পুলিশ সুপার ( মাধবপুর সার্কেল) মো. মাফিউর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, এর আগেও এএসআই অতনু বনিক এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয় কয়েক টি পত্রিকায় সংবাদ প্রচার করা হয়।
একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এক মহিলার শ্লীল-তাহানির চেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবার হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল।
তবে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি বারবার এমন অপরাধমূলক কাজে উৎসাহিত হচ্ছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।