কোনো শিক্ষার্থীকে চুমু দেয়া কওমে লুত এ-র অনুসরণ।
কোনো শিক্ষকই কোনো শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়া, ব্যাড টাচ করার সামান্যতম বৈধতা নেই। এটি কওমে লূতের পাপ। এমন পাপিষ্ঠরা কঠিনতম শাস্তি পেতেই হবে। আমার পরিবারের কারো বিষয়ে এমন কিছু ঘটলে ঘটনা ভিন্ন কিছু হতোনা। কিন্তু, আলোচ্য প্রেক্ষাপটে যেহেতু অভিযুক্ত পক্ষ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করছে, তাই প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখুক। অভিযোগ সত্য হলে শাস্তির ব্যাবস্থা করা হোক।
কেননা আমরা এর আগেও দেখেছি একজন মাদ্রাসার শিক্ষককে শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক কাজের অভিযোগে জেল খেটেছেন, অপমান অপদস্ত হওয়ার পর আদালতে প্রমান হয়েছে তিনি এমন কাজ করেননি৷ তো হুজুর করছে এমন কিছু শুনলেই আমরা সবাই নিজেরা বিচার করতে না বসি, এটিও খেয়াল রাখা দরকার। যাতে কারো উপর জুলুম না হয়।
আমরা আমাদের নতুন (যায়তূনা) ইংলিশ মিডিয়াম মাদ্রাসায় ঘোষণা করেছি, শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ার আগে অভিভাবকদেরও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। কেন? একজন গায়রতবান অভিভাবকের সন্তান গায়রতবান হবে। একজন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন অভিভাবকের সন্তানও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন হিসেবে গড়ে উঠবে। ফিটনেস মেন্টইন করা, হারাম খাবার না খাওয়া, হালাল ও সুন্নাহ লাইফস্টাইলে চলা ঘর থেকেই উম্মাহর যোগ্য সন্তানরা জন্ম নেয়।
আমরা আমাদের মাদ্রাসায় এজন্যই রেসিডেনশিয়াল ফ্যাসিলিটি রাখিনি। মা-বাবার কাছ থেকে ছোট্ট সন্তানদের দূরে রাখতে চাই না। আমরা বিশ্বাস করি, সন্তান সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকে মা-বাবার কাছে। সেভাবেই আমরা আমাদের মাদ্রাসার কারিকুলাম সাজিয়েছি
প্রচলিত কওমী মাদ্রাসাগুলো নিয়ে আপনাদের অভিযোগগুলো আমরা জানি, দেখি, দুঃখ প্রকাশ করি মাঝে মাঝে। কিন্তু লজ্জায় কিছু বলতে পারিনা। কিছু মানুষের জন্য পুরো আলেম সমাজের বদনাম। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে এমন-টি হতে দিবোনা, কখনোই না, নেভার। ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও আমরা কয়েক স্তরে পরীক্ষা নিয়ে নির্বাচন করব। কোনো চিপ মেন্টালিটির, অনৈতিক, আদর্শহীন কিংবা গায়রতহীন শিক্ষক আমরা নিয়োগ দেব না, যাঁদের দ্বারা এসব হওয়ার ন্যূনতম আশঙ্কা আছে।
মা-বাবাকেও হতে হবে আত্মমর্যাদাবান ও গায়রতওয়ালা। সন্তানের প্রতি অন্যায় দেখলে সেখানে প্রতিবাদ করার মতো যথেষ্ট সাহস ও শক্তি থাকতে হবে, সেটা হোক আমার প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোথাও। যে উম্মাহর পুরুষরা গায়রতবান, সেই উম্মাহর নারী ও শি-শুরা তাঁদের কাছেই সবচেয়ে নিরাপদ।
অভিভাবকদের বলছি, সন্তানের ব্যাপারে য-ৌন হয়র-ানির মতো ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন। আপনি মা হোন কিংবা বাবা। শুধু শারীরিক শক্তিতেই নয়, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, আদর্শ, নৈতিকতা ও দ্বীনদারিতায়ও আপনাকে যোগ্য পিতামাতা হতে হবে। এমন অভিভাবকদের জানাই অন্তর থেকে স্যালুট। 🫡
এমন জাতি গঠনেই আমরা কাজ করছি। এজন্য আমাদের মাদ্রাসায় মা-বাবাদের জন্য সাপ্তাহিক বা মাসিক প্যারেন্টিং সেশনের ব্যবস্থা রাখব, ইনশাআল্লাহ।
তবে শেষে একটি হাদিস স্মরণে রাখবেন:
রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রকৃত বীর সে নয়, যে শক্তি দিয়ে অন্যকে হারিয়ে দেয়; বরং প্রকৃত বীর সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
জিম করা অভিভাবকদের, বিশেষ করে কঠোরভাবে দ্বীন প্রাক্টিস করেন এমন প্যারেন্টদের জন্য ১০% অ্যাডমিশন ফি ডিসকাউন্ট দেওয়া যায় কি না, ভাবছি! (এটা অবিভাবকদের ফিটনেস থাকা অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য)
১ তারিখ থেকে অ্যাডমিশন শুরু, ইনশাআল্লাহ।
বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন: Madrasatuz Zaytuna International এ যোগাযোগ করুন।