তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

লামার দুর্গম সাঙ্গু মৌজায় শিক্ষাবঞ্চিত শতাধিক শি-শু, সরকারি বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি।

Desk Editor 1 hour আগে | ০৭:৫০ PM

লামার দুর্গম সাঙ্গু মৌজায় শিক্ষাবঞ্চিত শতাধিক শি-শু, সরকারি বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি।

 

৭–৮ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন, পাঁচটি ম্রোপাড়ার শি-শুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতের দাবি

 

নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

 

বিজ্ঞাপন

বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম সাঙ্গু মৌজায় প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ম্রো সম্প্রদায়ের শতাধিক শি-শু। নিকটবর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাদের। ফলে রোয়াজাপাড়া, রেংলেপাড়াসহ অন্তত পাঁচটি ম্রোপাড়ার অনেক শি-শু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাঙ্গু মৌজায় রোয়াজাপাড়া, রেংলেপাড়া, মেনক্রুংপাড়া, রেংছমপাড়া ও মাংখাইকপাড়াসহ কয়েকটি পাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ম্রো জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করছেন। এসব পাড়ার শি-শুদের জন্য কাছাকাছি কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

স্থানীয়দের তথ্যমতে, নিকটবর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পাহাড়ি ছড়া, নদী ও উঁচু-নিচু দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এত দূরে গিয়ে ছোট শি-শুদের পক্ষে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ছড়ার পানি বৃদ্ধি, তীব্র স্রোত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে শি-শুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের অভাবে এসব পাড়ার অনেক শি-শুই বর্ণমালা শেখার সুযোগ পাচ্ছে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কেউ কেউ পরিবারের জীবিকা নির্বাহে জুমচাষসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত হচ্ছে। ফলে শৈশবেই শিক্ষার স্বাভাবিক সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে তারা। এতে ভবিষ্যতে এসব শি-শুর শিক্ষাগত ও সামাজিক অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

তবে রোয়াজাপাড়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে ‘সিংমং’ নামে এক ব্যক্তি একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে দুজন শিক্ষক ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে আলীকদম জোনের সহায়তায় গয়ালমারা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মৈত্রী স্কুল’। তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব উদ্যোগের পরও রোয়াজাপাড়া, রেংলেপাড়াসহ আশপাশের পাঁচটি ম্রোপাড়ার সব শি-শুর জন্য পর্যাপ্ত ও সহজলভ্য শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

 

সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, অন্যান্য এলাকার শি-শুরা বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করছে। অথচ দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তাদের সন্তানদের অনেকেই বর্ণমালাও শিখতে পারছে না। ছোট শি-শুদের পক্ষে প্রতিদিন দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই শি-শুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান তারা।

 

বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-৩ শাখার একটি প্রতিবেদনে সাঙ্গু মৌজায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের যৌক্তিকতার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য চাহিদাভিত্তিক নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে মতামত চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রোয়াজাপাড়া রেংলেপাড়া, মেনক্রুংপাড়া, রেংছমপাড়া ও মাংখাইকপাড়ার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। সেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংস্থানও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান চংপাত ম্রো বলেন, রোয়াজাপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কাছে সুপারিশ ও প্রত্যয়ন দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখতে পাননি।

বিজ্ঞাপন

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাবে সাঙ্গু মৌজার ম্রো জনগোষ্ঠীর শি-শুরা শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। শুধু ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের সব শি-শুর শিক্ষার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয় স্থাপন, প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

 

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা প্রতিটি শি-শুর মৌলিক অধিকার। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে কোনো শি-শু যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সাঙ্গু মৌজার রোয়াজাপাড়া, রেংলেপাড়াসহ আশপাশের পাড়াগুলোর শি-শুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেবে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ