তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল যাচ্ছে সাভারের।

Desk Editor ৪০ দিন আগে | ০৮:১৩ PM

গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল যাচ্ছে সাভারের।

 

মোঃরফিকুল ইসলাম জিলু সাভার ঢাকা :

 

বিজ্ঞাপন

মেট্রোরেল প্রকল্পের এমআরটি লাইন-৫-এর নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দীপবরনপুর এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। প্রস্তাবিত জায়গার জমি হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা কাটাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) আয়োজিত এ সভায় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি টার্মিনাল স্থানান্তরের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে গাবতলী টার্মিনাল নতুন জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান।

বিজ্ঞাপন

 

 

টার্মিনালটি সাময়িকভাবে সাভারের দীপবরনপুরে স্থানান্তর করা হচ্ছে, স্থায়ীভাবে নয়। অর্থাৎ এটি মেট্রোরেল নির্মাণকাজ চলাকালীন একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। এর আগে ২০২৪ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গাবতলীতে সিটি টার্মিনাল রেখে হেমায়েতপুরে স্থায়ী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। বর্তমান দীপবরনপুরের এই ব্যবস্থা সেই আগের পরিকল্পনার সঙ্গে এক নয়, বরং এটি মেট্রোরেলের প্রয়োজনে তৈরি হওয়া একটি অন্তর্বর্তী সমাধান বলেই মনে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

 

তাহলে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর টার্মিনাল কোথায় থাকবে, গাবতলীতে ফিরবে, হেমায়েতপুরে স্থায়ী হবে, নাকি দীপবরনপুরেই স্থায়ীভাবে থেকে যাবে? সাভারবাসীর জন্য এই প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি সাময়িক ব্যবস্থার জন্য অবকাঠামোয় বিনিয়োগ আর একটি স্থায়ী ব্যবস্থার জন্য বিনিয়োগ, এই দুইয়ের পরিকল্পনা একরকম হওয়ার কথা।

 

বিজ্ঞাপন

একটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তরিত হওয়া মানে শুধু বাস সরে আসা নয়। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, শত শত বাস, পণ্য পরিবহন, খাবারের দোকান, হকার, শ্রমিক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সব মিলিয়ে একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র নতুন জায়গায় স্থানান্তরিত হবে। তেঁতুলঝোড়া ও আশপাশের এলাকার সড়ক অবকাঠামো, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা এই বাড়তি চাপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত কি না, তা এখনই যাচাই করা প্রয়োজন। সমন্বয় সভায় ডেসকো ও তিতাস গ্যাসের উপস্থিতি থেকে বোঝা যায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও, ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিপুল অবকাঠামো বাস্তবে প্রস্তুত করা সম্ভব কি না, তা একটি বড় প্রশ্ন।

 

অন্যদিকে এটি সাভারের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি করতে পারে, নতুন ব্যবসা, পরিবহন-সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা থাকে। তবে সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও আছে, পরিকল্পনাহীনভাবে হুট করে একটি বিশাল টার্মিনাল বসে গেলে যানজট, অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং ভূমি ব্যবহারের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে, ঠিক যেমনটা বর্তমানে সাভারের অন্যান্য এলাকায় অটোরিকশা ও হকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

 

গাবতলী বাস টার্মিনাল সাভারে আসা সাভারের জন্য একটি বড় ঘটনা, তবে সেটি সাময়িক না স্থায়ী তার ওপর নির্ভর করছে এর প্রকৃত প্রভাব। মেট্রোরেলের প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে একটি বিশাল টার্মিনাল সরিয়ে আনা হলে অবকাঠামো প্রস্তুতিও একই তৎপরতায় হতে হবে, নইলে বাড়তি চাপ পড়বে সাভারের রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থার ওপর, যেগুলো এমনিতেই সংকটে আছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ