টাকার অভাবে জোড়া লাগছে না মাথার হাড়: ৮ বছরের কলির।
টাকার অভাবে থমকে গেছে ৮ বছরের শি-শু মাহমুদ কলি সায়ানের চিকিৎসা। একটি দুর্ঘটনার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথার একটি অংশের খুলির হাড় খুলে হাসপাতালে সংরক্ষণ করে রেখেছেন চিকিৎসকেরা। কথা ছিল দ্রæতই অপর একটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই হাড় আবার মাথায় প্রতিস্থাপন করা হবে। কিন্তু খরচের চিন্তায় এখন দিশেহারা শি-শুটির দরিদ্র পরিবার।
ফয়সাল আহম্মেদ ও মাহমুদা আক্তারের এক মাত্র সন্তান কলি। তারা সাভার পৌর এলাকায় বাবুল মিয়ার মালিকাধীন ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে। ফয়সাল পেশায় ড্রাইভার ও মাহমুদা টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি পদে চাকরি করে।
শি-শু মাহমুদ কলি সায়ানের মা মাহমুদা আক্তার জানান, আমি টঙ্গীতে পোশাক কারখানায় চাকরির কারণে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতাম। সেসময় আমাদের পরিবারের সুখেই দিন কাটছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৫ই ডিসেম্বরের দাদির সঙ্গে ছাদে গিয়েছিল কলি। সেসময় হঠাৎ চার তলার বাড়ির ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা চিকিৎসার জন্য কলিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে আসে । এরপরে একটি অপারেশনের মাধ্যমে কলির মাথার উপরের অংশের হাড় খুলে রাখা হয়।
চিকিৎসক জানায় পরে আরো একটি অপারেশনের মাধ্যমে মাথার হাড় জোড়া লাগানো হবে। সেসময় কলির চিকিৎসায় আমাদের পরিবারের জমানো সব টাকা খরচ হয়ে যায়। চিকিৎসক বলে অপারেশনের কয়েক মাসের মধ্যেই আরো একটি অপারেশন করে মাথার হাড় লাগানো হবে। কিন্তু এখন টাকার অভাবে অপারেশন করাতে পারছি না। অপারেশনের সময় পার হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু আমরা দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়েছি। এখন এতো টাকা কোথার থেকে দিবো বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
মাহমুদ কলির বাবা ফয়সাল আহম্মেদ জানান, মেয়ে অসুস্থ্য হওয়ার পর থেকে সাভারের এনাম মেডিকেলের পাশে একটি রুম ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। কলির প্রতিদিন প্রায় ৬’শ টাকার ঔষধ লাগছে। এছাড়া সেকশন মেশিন, অক্সিজেন ও বেড বাবদ প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এসব খরচ মেটাতে এখন হিমসিম খেতে হচ্ছে। মেয়ের অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে পারছেন না। এসময় সমাজের বিত্তবান ও দানবীরদের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি।
মোঃরফিকুল ইসলাম জিলু
সাভার ঢাকা