টানা বৃষ্টিতে লৌহজংয়ের নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস।
যাত্রী না থাকায় আয়হীন রিকশা-অটোরিকশাচালক, বন্ধ ফুটপাতের দোকান, কাজহীন দিনমজুর; ঠান্ডা-জ্বর-কাশিতে বাড়ছে রোগীর চাপ
লিটন মাহমুদ, (মুন্সীগঞ্জ জেলা) প্রতিনিধি।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে রিকশা ও অটোরিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক এবং ভাসমান দোকানিরা কাজ হারিয়ে অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজে শি-শু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ মৌসুমি রোগের প্রকোপও বেড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়েছে। যাত্রী সংকটে অনেক রিকশা ও অটোরিকশাচালক নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। যারা সড়কে বের হচ্ছেন, তাদেরও কাঙ্ক্ষিত আয় হচ্ছে না।
রংপুর থেকে জীবিকার সন্ধানে লৌহজংয়ে আসা অটোরিকশাচালক সেকান্দার শেখ বলেন, ❝আমি ভাড়ায় অটোরিকশা চালাই। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে যাত্রী নেই। যা আয় করি, তা দিয়ে গাড়ির ভাড়াও ওঠে না। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে বৃষ্টির সুযোগে কিছু চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন মিয়া জানান, ১০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে তর্ক-বিতর্ক, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
টানা বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগে পড়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাবে অনেক শিক্ষার্থীকে বৃষ্টিতে ভিজেই বিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টারে যেতে দেখা গেছে। এতে ঠান্ডা-জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভাসমান ফুটপাতের অধিকাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে। বেচাকেনা না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ভাসমান দোকানি শফিক বলেন, ❝বৃষ্টির কারণে দোকান খুলতে পারছি না। ক্রেতাও নেই। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
অন্যদিকে দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক ও মাটি কাটার শ্রমিকরাও কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় ফার্মেসি ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, সর্দি-কাশি ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।প্রয়োজনে এটি জাতীয় দৈনিকের উপযোগী আরও সংক্ষিপ্ত বা টিভি নিউজ স্ক্রিপ্ট আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।