সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকটি গ্রাম থেকে অন্তত ১৯টি গরু চুরির তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট রাতে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের সিংগাড়পাড়া এলাকা থেকে একসঙ্গে ৫টি গরু চুরি হয়। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তাড়াশ পৌরসভার খুটিগাছা গ্রামের কৃষক হায়দার আলীর গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়াড়ি গ্রাম থেকে ৪টি এবং কুসুম্বি গ্রাম থেকে ২টি, মোট ৬টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব এলাকায় অন্তত ১৯টি গরু চুরির ঘটনা ঘটল।
এর মধ্যে খুটিগাছা গ্রামের কৃষক হায়দার আলীর চুরি হওয়া ৮টি গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। এক রাতেই এতগুলো গরু হারিয়ে পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র গভীর রাতে বাড়িঘর ও গোয়ালঘর টার্গেট করছে। রাত আনুমানিক ১টা থেকে ২টার পর গোয়ালঘরের তালা কেটে বা ভেঙে একসঙ্গে একাধিক গরু নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে তারা। চুরির ঘটনায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাম জাফর জানান, চুরি হওয়া গরু উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত চলছে।
এদিকে ধারাবাহিক গরু চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা রাতে পুলিশের টহল ও নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া গরু দ্রুত উদ্ধার এবং চক্রটির সদস্যদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।