দাউদকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসিতে অভাবনীয় সাফল্য: পাসের হার ৯৩.৯৩%।
আবু কোরাইশ আপেল: দাউদকান্দি, কুমিল্লা।
কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী দাউদকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হলো মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার অভাবনীয় সাফল্য। চলতি বছরের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা মেতে উঠে উৎসবে। এ বছর অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে মোট পাসের হার ৯৩.৯৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বমোট ৫৯ জন শিক্ষার্থী। কৃতি শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করতে বিদ্যালয়ের বর্তমান অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা একযোগে উদযাপনে অংশ নেন।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ সমাবেশে সমবেত হন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং মিষ্টি বিতরণ করে সাফল্য উদযাপন করা হয়। পুরো প্রাঙ্গণে এ সময় সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সমবেত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুস ছাত্তার। তিনি তার বক্তব্যে এই ফলাফলের নেপথ্যে থাকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উত্তীর্ণদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
আব্দুস ছাত্তার বলেন, “যেকোনো বড় অর্জনের পেছনে থাকে যৌথ প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম। আমাদের বিদ্যালয়ের এই অভাবনীয় সাফল্য একদিনে আসেনি। বিদ্যালয়ের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকবৃন্দের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা, শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার ফলেই আজ আমরা এই গৌরাবান্বিত পজিশনে পৌঁছাতে পেরেছি। শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতে এই সাফল্যের ধারা আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ ও শুভকামনা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু পাঠ্যপুস্তকের পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এ বছরের ফলাফল প্রমাণ করে যে সঠিক তদারকি ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী পরিচর্যা করেছেন, যার প্রতিফলন ঘটে এসএসসির ফলাফলে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, বিভিন্ন বিষয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মণ্ডলী এবং পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে কৃতী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং তাদের উচ্চশিক্ষার ধাপেও এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যালয়ের জুনিয়র অর্থাৎ বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা জানায়, বড় ভাই-বোনদের এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামী দিনের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে নিজেরাও যাতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে, সে লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই কঠোর পরিশ্রম করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শিক্ষা পরিবেশ ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এক অভিভাবক বলেন, “শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও যত্নশীলতার কারণেই আজ আমাদের সন্তানরা এই ভালো ফলাফল উপহার দিতে পেরেছে। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠান-টিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।”
আয়োজনের শেষভাগে কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও ফুল তুলে দেওয়া হয়। পুরো বিদ্যালয় চত্বরে একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে দেওয়া, ছবি তোলা এবং আনন্দের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় সাফল্য উদযাপনের এই দিন-টি। শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় গুণীজনরা মনে করছেন, দাউদকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ধারাবাহিক সাফল্য পুরো এলাকার শিক্ষা প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।