পঞ্চগড় জেলা প্রতিধিনি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১২ বছরের শিশুকে লটকনের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বৈদ্যনাথ রায় নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ভুক্তভোগী শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলও করেন স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ঢাঙ্গীরহাট বৈরাগীপাড়া এলাকার রামচরণ রায়ের ছেলে।
ঘটনার পর বৈদ্যনাথ আত্মগোপনে থাকলেও পরে পুলিশ ও ডিবি’র যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায় গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে শিশুটিকে লটকন দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে নিয়ে যান বৈদ্যনাথ। দীর্ঘ সময় শিশুটিকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
এ সময় স্থানীয় কয়েকজন শিশু জানায়, বৈদ্যনাথ শিশুটিকে নিজের ঘরের দিকে নিয়ে গেছেন।
প্রথমবার বৈদ্যনাথের বাড়িতে গিয়ে খুঁজে না পেলেও দ্বিতীয়বার গেলে অভিযুক্তের ভাতিজা জানায়, শিশুটিকে টয়লেটের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পরদিন সকালে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিকেলে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসকের কাছে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানায়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানিয়া জাহান সুকন্যা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যৌন নিপীড়নের আলামত পান। পরে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়।
এদিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক মো: মিনজানুল হক জানান, শুক্রবার বিকেলে দেবীগঞ্জ থেকে আমাদের এখানে একটি শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ ছিলো শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আমরা পরীক্ষা -নিরীক্ষা করেছি এবং সোয়াব নিয়েছি পরীক্ষা -নিরীক্ষা করার জন্য। আমরা শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এখানে ভর্তি রেখেছি।
শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বোদা এলাকায় বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে বৈদ্যনাথ রায়কে গ্রেফতার করা হয়।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মুসা জানান, অভিযুক্তকে শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।