পঞ্চগড়ে ডিপ্লোমা মেডিকেল সহকারীর চেম্বার নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি
আশিকুর রহমান রনি
ঠাকুরগাঁওয়ের বড় খোঁচাবাড়ী থেকে পঞ্চগড়ে এসে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে এহতেশামুল হক শামুর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, তিনি একজন ডিপ্লোমা মেডিকেল সহকারী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চগড়ের জালাসী মডেল মসজিদ সংলগ্ন একটি মার্কেটে অবস্থিত আলিফ মেডিসিন কর্ণার নামের একটি ওষুধের দোকানে তিনি চেম্বার পরিচালনা করছেন।
সেখানে কম্পিউটার ও বিভিন্ন চিকিৎসা-পরীক্ষা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নানা ধরনের টেস্ট করা হচ্ছে বলেও দেখা যায়।
পাশাপাশি তিনি রোগী দেখে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন এবং জনপ্রতি ২০০ টাকা করে ভিজিট নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আমিনার রহমান নামের এক রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি হাটুর ব্যথার চিকিৎসার জন্য এখানে এসেছেন, কম্পিউটার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মাধ্যমে পরীক্ষা করে শামু তাকে বলেন তার ক্যালসিয়াম শুকিয়ে গেছে এবং তাকে ৯টি ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, একজন ডিপ্লোমা মেডিকেল সহকারীর আইনগত ও পেশাগত ক্ষমতা কতটুকু? তিনি কোন কোন ধরনের রোগী দেখতে ও চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন? তিনি কি সব ধরনের ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন? এছাড়া তার নামের আগে ‘চিকিৎসক’ শব্দটি ব্যবহার করা আইনসঙ্গত ও বিধিসম্মত কি না, এসব বিষয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে এহতেশামুল হক শামুর কাছ থেকে সন্তোষজনক ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি ।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ অনুমোদন, নিবন্ধন ও পেশাগত সীমার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হলে কোনো রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হতে পারেন।
এতে রোগীর শারীরিক ক্ষতি কিংবা জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটলে দায়ভার কার ওপর বর্তাবে, এ প্রশ্নও উঠেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা
অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তার চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার পেশাগত নিবন্ধন, চেম্বার পরিচালনার অনুমোদন, প্রেসক্রিপশন দেওয়ার এখতিয়ার এবং ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনার বৈধতা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যক্তিসহ চেম্বারে আসা রোগীরা।