কাজ না করেই অর্থ লোপাট—দুই অর্থবছরে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌরসভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বেশ কয়েকটি প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেসব প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, সেসব কাজ বাস্তবে কতটুকু হয়েছে, আর বরাদ্দের অর্থই বা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রকল্প অর্থবছরে তাড়াশ পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ২৯৮ টাকা।
পরবর্তী ২০২৫ সালের প্রকল্প অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয় আরও ১৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। দুই অর্থবছরে মোট বরাদ্দ দাঁড়ায় ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ২৯৮ টাকা।
অনুসন্ধানে যেসব প্রকল্পের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসের আঙ্গিনায় সৌন্দর্যবর্ধন কাজ—বরাদ্দ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তাড়াশ পৌর এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার প্রকল্প—বরাদ্দ ২ লাখ টাকা।
তাড়াশ পৌর বাসস্ট্যান্ডের পাশে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ—বরাদ্দ ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
তাড়াশ অফিসার্স ক্লাবের সামনে শি-শুদের প্লে-গ্রাউন্ড উন্নয়ন—বরাদ্দ ২ লাখ টাকা।
তাড়াশ উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি সংস্কার—বরাদ্দ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
তাড়াশ চতুর্থ শ্রেণির সরকারি সমিতি ঘর মেরামত—বরাদ্দ ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
এছাড়া তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পেছনের রাস্তার গেট নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে উল্লিখিত সাতটি প্রকল্পেই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রকল্পের কয়েকটির কাজ বাস্তবে দৃশ্যমান নয়। কোথাও কাজ হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে কতটুকু হয়েছে এবং বরাদ্দ অনুযায়ী কাজের মান ও পরিমাণ ঠিক আছে কি না—তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
বিশেষ করে সরকারি অর্থে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রকল্প, বরাদ্দ, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাণ, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং বিল পরিশোধের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রকল্পের নথি, বিল-ভাউচার, কার্যাদেশ ও বাস্তব কাজ সরেজমিনে পরিমাপ করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. এনামুল হকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত ০১৭০০-৭১৬৯৯৮ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন-টি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে তাড়াশ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, ❝আমি এখানে নতুন এসেছি। আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পারলাম। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব, কেন কাজ হয়নি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।