হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর স্বর্ণ কেনার ৮০ হাজার টাকার লোভে শ্বাশুড়িকে হত-্যার দায়ে অলিউর রহমান অলিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের দিয়েছে আদালত।
আজ বুধবার দুপুর ০১ টার দিকে হবিগঞ্জ এর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১) কাঁকন দে এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার তুলশীপুর (অলিপুর) গ্রামের মো: ইউনুছ আলীর ছেলে মো: অলিউর রহমান অলি (৪২)। রায়ে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে এ আসামীকে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো: মুখলেছুর রহমান যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ মে সকালে দন্ড প্রাপ্ত আসামী অলিউর রহমান তার শাশুড়ী জাহানারা বেগমকে স্বর্ণালংকার কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।
এরপর থেকে তিনি ওই মহিলা আর বাড়ীতে ফিরে আসেনি। পরে ১ জুন চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ওয়াচ টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে বেতবাগান থেকে এক নারীর গলিত মর-দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে নি-হতের ছেলে মর-দেহটি তার মা জাহানারা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় তাঁর ছেলে মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় একটি হত-্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারী দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা শেষে বিচারক বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণা কালে দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি মো: গুলজার আহমেদ খান।
রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে, এটি একটি ক্লুলেস মার্ডার ছিল। আসামী কর্তৃক ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে যাওয়া, আসামীর স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি, একসাথে অবস্থানের সিডিআর এবং বিচারকালে ভিকটিমের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রসিকিউশনপক্ষ আসামীর বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে।
তাছাড়া এই জেলার হত-্যা মামলা গুলোতে তদন্তকারী সংস্থা কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও যথাযথ ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে তা অপরাধ উন্মোচনে ও আসামী সনাক্তে তথা ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সহায়ক হবে মর্মে তিনি জানান।##
বার্তা প্রেরক
মাোহাম্মদ নাজির মিয়া
হবিগঞ্জ থেকে
০১৯৭৯২৪৫৩৩৭(হোয়াটসএ্যপ)