ধূসর আকাশ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা আর দূষিত নদীর পানি—সব মিলিয়ে ঢাকার পরিবেশগত সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যে। একজন শিক্ষার্থীর চোখে এই বাস্তবতা উঠে এসেছে ‘রোজ একটু একটু করে ফুরিয়ে যাচ্ছি’ শিরোনামের একটি লেখায়।
লেখক মাহিন আলম আম্মান, ঢাকা-ভিত্তিক শিক্ষার্থী ও সামাজিক কর্মী। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে, রাজধানীর দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়া, যানজটে সময় নষ্ট এবং বুড়িগঙ্গার দূষিত পানির দুর্গন্ধ যেন নগরজীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষায়, দিনের শুরুতেই একজন শিক্ষার্থীকে ধুলা ও ধোঁয়ার সঙ্গে লড়াই করতে হয়।
লেখাটিতে বায়ুদূষণকে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের সঙ্গে যুক্ত করে জীবাশ্ম জ্ব-ালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্ব-ালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পরিবর্তনের ব্যয় যেন সমাজের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
লেখাটির শেষাংশে রয়েছে আশার বার্তা। পরিচ্ছন্ন গণপরিবহন, ছাদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং বুড়িগঙ্গার দূষণমুক্ত পরিবেশের স্বপ্ন দেখেছেন লেখক। তাঁর প্রত্যাশা, পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর দূষণের ভার নিয়ে বাঁচতে হবে না।
লেখক: মাহিন আলম আম্মান, শিক্ষার্থী ও সামাজিক কর্মী, ঢাকা।