যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন (২৯) হত-্যা মামলার রহস্য উন্মোচন; হত-্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি গোলাম রসুল (৩০) গ্রেফতার
গত ২০/০৮/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে যশোর জেলার কোতয়ালী থানাধীন পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন (২৯) বিকাল আনুমানিক ০৩:৩০ ঘটিকার সময় যশোর চৌরাস্তা মোড়স্থ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরবর্তীতে পূর্ব বারান্দীপাড়া লিচুতলা মাদ্রাসার পেছনে জনৈক বাবুর মেহগনি বাগানে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে হত-্যা করে ফেলে রেখে যায়। একই দিন বিকাল আনুমানিক ০৪:১৫ ঘটিকার সময় ভিকটিমের মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার রক-্তাক্ত মর-দেহ দেখতে পান। সংবাদ পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য মর-দেহ যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৮৬, তারিখ-২১/০৮/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ; ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। পিবিআই যশোর জেলা স্ব-প্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিঃ) মো. মাসুদ মামলাটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৬/০৮/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন পুইশুর এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি গোলাম রসুল (৩০)-কে গ্রেফতার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পিবিআই এর তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম আল-আমিনের সঙ্গে গোলাম রসুল ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন আসামিরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে আল-আমিনকে নির্জন স্থানে ডেকে নেয়। সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপ-িয়ে এবং ইট দ্বারা আঘাত করে গুরুতর জখম করে। অতিরিক্ত রক-্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত-্যু ঘটলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর আসামি গোলাম রসুল আত্মগোপনে চলে যায় এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। তবে স্থানীয় তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।