তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি’র অভিযানে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দা-লাল চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

Nayem Hasan Nirob Sirajganj 2 hours আগে | ০৫:১৩ PM

***রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি’র অভিযানে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দা-লাল চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার***

রংপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মহোদয়ের দিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), রংপুর এর তত্ত্বাবধানে রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি’র একটি চৌকস টিম ৩১ জুলাই, ২০২৬ খ্রি. ১৫.৩০ ঘটিকার সময় পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের মূল গেইটে ডিউটি করাকালীন সময়ে ১নং অভিযুক্ত মোঃ আশরাফুল ইসলাম (২১) ০১টি জাল প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের ফেইস ডিটেকশন পয়েন্ট এ প্রবেশ করাকালে সন্দেহ হলে যাচাই-বাচাই করার জন্য তাকে নিয়ে পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজের একাডেমিক ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, প্রবেশপত্রটি ভুয়া এবং তার সাথে প্রক্সি দিতে আসা ৩নং অভিযুক্ত মোঃ তাজমিলুর রহমান (১৯) কে আটক করা হয়। ধৃত আশরাফুলকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তিনি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, কামালকাছনা, রংপুর অফিসে কর্মরত ০২ নং অভিযুক্ত মোঃ বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) এবং ৪ নং অভিযুক্ত মোঃ নুরুল ইসলাম (৪৬) দ্বয়ের সাথে পরিচয়ের সুবাদে অভিযুক্ত আশরাফুলের বাবার সাথে ১৭ (সতের) লক্ষ টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র)পদে-নিয়োগ করবে। এ লক্ষ্যে আশরাফুল ঢাকা ব্যাংকের ০১২২১৫০১২০৫৯৩ একাউন্টে দিনাজপুর শাখা হতে ২,৫০,০০০/ (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে ০২নং ও ৪নং অভিযুক্ত আশরাফুলের মোবাইল হোয়াটস অ্যাপ নাম্বারে ০১৩১৮-৯২৯৪৭৭ বর্ণিত জাল প্রবেশপত্রটি পাঠিয়ে দেয়। ০১নং অভিযুক্ত বিধি মোতাবেক কোন ধরনের শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জাল প্রবেশপত্র সৃজন ও প্রিন্ট করে পরীক্ষা দিতে আসে। অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম এর দেওয়া তথ্য মতে ০২নং অভিযুক্ত মোঃ বাদশা মাসউদ আলম কে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর শহরের জাহাজ কোম্পানি মোড় হতে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত অভিযুক্ত মোঃ বাদশা মাসউদ আলম এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, আর্থিক লেনদেন ও জাল প্রবেশপত্র সংক্রান্তে সকল ধরণের কথাবার্তার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। ধৃত অভিযুক্ত মোঃ বাদশা মাসউদ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, ০৪নং অভিযুক্ত মোঃ নুরুল ইসলামসহ আরও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন উক্ত চক্রের সাথে জড়িত। অভিযুক্তরা এরকম প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল প্রবেশপত্র তৈরী করে বিভিন্ন লোককে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার নামে অপরাধ করে আসছে। এছাড়াও ০২নং ও ০৪নং অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তরা বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার ছদ্মবেশ (পদবী) ধারণ করে ভুয়া পরিচয় দিয়ে পুলিশের সিনিয়র অফিসারদেরকে মোবাইলে কল করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

ধৃত অভিযুক্তরা একই উদ্দেশ্য সাধনকল্পে একে অপরের সহায়তায় প্রতারণার উদ্দেশ্যে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র)/২০২৬ পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস প্রদান করে জাল প্রবেশপত্র প্রস্তুত করত।

ধৃত অভিযুক্তদের হেফাজত থেকে ভুয়া প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন স্ক্রিনশট, বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য ৪ নং অভিযুক্তকে আরপিএমপি এর কোতোয়ালি থানার সহায়তায় ঢাকা হতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

বিজ্ঞাপন

অতঃপর জব্দকৃত আলামত ও ধৃত অভিযুক্তদের
কোতয়ালী থানা, আরপিএমপি, রংপুরে এনে মামলার এজাহার দাখিল করা হয়। এ ব্যাপারে অত্র থানায় Public Examinations(Offences) (Amendment) Act, 2026 এর ৩/১৩ ধারা তৎসহ পেনাল কোড ৪০৬/৪২০/৪০৯/৪৬৮/৪৭১/৪৭৪/১০৯/১৭০/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ